অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টাকে (Preity Zinta)  অনুমতি দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট, যাতে তিনি Google LLC, Meta Platforms এবং অন্যান্য সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। অভিযোগ, এআই ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, চ্যাটবটের মাধ্যমে তৈরি তাঁর নকল ব্যক্তিত্ব এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্ট তাঁর অধিকার লঙ্ঘন করছে।


মঙ্গলবার বিচারপতি অভয় আহুজার বেঞ্চ প্রীতি জিন্টার করা আবেদনের শুনানি করে তাঁকে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মামলায় অভিনেত্রীর পার্সোনালিটি রাইটস (ব্যক্তিগত পরিচয় ও ভাবমূর্তির অধিকার), কপিরাইট এবং নৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিনেত্রীর আইনজীবী রোহন কদম আদালতে জানান, এই মামলায় অভিযুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার (injunction) আবেদন করা হবে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন, কপিরাইট ভঙ্গ, সুনাম ও ভাবমূর্তির ক্ষতি এবং ১৯৫৭ সালের কপিরাইট আইনের অধীনে নৈতিক অধিকার লঙ্ঘন।

আদালতে জানানো হয়, AI তৈরি ডিপফেক ভিডিও, মিম, বিকৃত ছবি, AI-নির্মিত চ্যাটবটের চরিত্র এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে অভিযুক্তরা এমন কিছু সামগ্রী তৈরি, আপলোড, ছড়িয়ে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যা অভিনেত্রীর স্বাধিকার লঙ্ঘন করছে।
রোহন কদম বলেন, প্রীতি জিন্টা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি মূলত মুম্বইয়ে বসবাস ও কাজ করেন। তাই তাঁর সুনাম, পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার বম্বে হাইকোর্টের বিচারাধীন এলাকার মধ্যে পড়ে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ করা সামগ্রী শুধু মুম্বই নয়, সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, এই ঘটনার একটি অংশ বম্বে হাইকোর্টের আওতাভুক্ত এলাকায় ঘটেছে। যদিও অভিযুক্ত সংস্থাগুলির অফিস আদালতের এলাকার বাইরে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই কার্যকলাপ চালানো হয়েছে।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানায়, এই মামলা করার অনুমতি দেওয়া উচিত।
আদালত নির্দেশ দেয়, “এই আদালত যেন আবেদনকারীকে লেটার্স পেটেন্টের ধারা ১২ অনুযায়ী অনুমতি দেয়, যাতে তিনি এই আদালতে উক্ত মামলা দায়ের করতে পারেন।”