টলিউডের অন্দরে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন টানাপোড়েন ও বিক্ষোভের অবসান। শেষমেশ ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ তথা ইম্পা (EIMPA)-র সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। খবর, বিদ্রোহী প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশের লাগাতার আন্দোলন এবং প্রবল চাপের মুখে পড়েই ইম্পা কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। তবে ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে পিয়া সেনগুপ্ত নিজে এখনও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি।
প্রযোজক-পরিবেশক শতদীপ সাহা এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন। আজকাল ডট ইন-কে বললেন, " পিয়া সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেছেন প্রায় মাসখানেক। ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। দের কোনও এখন গুরুত্ব নেই। পিয়া সেনগুপ্ত একা নয় আরও বেশ কয়েকজন ছেড়েছেন ইম্পা। এখন যেকজন বাকি থেকে গিয়েছে কমিটিতে তাঁরা এখন একটা 'ছাতা' খুঁজছে যদি থেকে যাওয়া যায় সেটির আশ্রয়ে।"
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই ইম্পার অন্দরে ক্ষমতার অলিন্দে যুদ্ধ চলছিল। প্রযোজকদের একটি বড় অংশ পিয়া সেনগুপ্তের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিবাদ এমন চরমে পৌঁছায় যে, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাতারাতি প্রবীণ প্রদর্শক ও প্রযোজক রতন সাহাকে সংগঠনের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। এরপর থেকেই পিয়া সেনগুপ্তের ওপর পদ ছাড়ার চাপ আরও দ্বিগুণ হতে শুরু করে।
অথচ কয়েক দিন আগেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অপসারণের দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। পিয়া জানিয়েছিলেন, একমাত্র আদালত যদি তাঁর এই কার্যকালকে বেআইনি বা অবৈধ ঘোষণা করে, তবেই তিনি চেয়ার ছাড়বেন। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা ঘেরাও, বিক্ষোভ আর সংগঠনের অচলাবস্থার জেরে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পথে না হেঁটে পিছু হটতেই বাধ্য হলেন তিনি।
আপাতত পিয়া সেনগুপ্তের এই পদত্যাগের পর টলিউডের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনে শান্তি ফেরে না কি রতন সাহার নেতৃত্ব নিয়ে নতুন কোনও বিতর্কের সূত্রপাত হয়, সেটাই এখন দেখার। জানিয়ে রাখা ভাল, বর্তমানে ইম্পার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রতন সাহা।
















