উর্বশী রাউতেলা যাই করেন না কেন, তা লাইমলাইটে আসতে বাধ্য। প্রচার পেয়েই ছাড়বে! সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একগুচ্ছ বোমা ফাটালেন এই অভিনেত্রী। উর্বশী জানান, খুব শীঘ্রই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছেন। পাশাপাশি নিজের প্রযোজনা সংস্থা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি বলেন, "রাজনীতি ও প্রযোজনার পরিকল্পনা অবশ্যই তালিকায় আছে, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে আমি একটু বেশিই ব্যস্ত ছিলাম।"
যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে, অভিনয়ের পর তিনি কখনও পরিচালনা করতে চান কি না? কোনও রকম দ্বিধা না রেখে উর্বশীর চটজলদি জবাব, "হ্যাঁ, আমি গান গাইতে পারি, আর ছবি পরিচালনা করতেও ভীষণ পছন্দ করব। তাই নিশ্চিতভাবেই আমি ছবি পরিচালনা করব।" কিন্তু কেমন হবে তাঁর প্রথম ছবি? উর্বশী যোগ করেন, "মানুষ হিসেবে আমি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। তাই আমি একটা জাঁদরেল প্রেমের গল্প পরিচালনা করতে চাই, হয়তো ঠিক ‘টাইটানিক’-এর মতো কিছু একটা!"
উর্বশীর এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই শুরু হয়ে যায় হাসির রোল আর ট্রোলিংয়ের বন্যা। হাতে একটি কাচের জার নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় এক নেটিজেন খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, "ইতিহাসের প্রথম অভিনেত্রী, যিনি হাতে কাছের বয়াম নিয়ে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন"। উর্বশীর ‘টাইটানিক’ বানানোর স্বপ্নকে কটাক্ষ করে অন্য একজন লিখেছেন, "এই ছবির নাম হওয়া উচিত টাইটানিক নয়, ট্রাই-প্যানিক !" তৃতীয় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "হলিউড নায়িকাদের মতো আচরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে স্রেফ হাসির খোরাক হচ্ছেন।"তবে ট্রোলারদের ভিড়ে উর্বশীর ভক্তরাও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কেউ লিখেছেন, "আমাদের উজ্জ্বল নক্ষত্র, তোমার জন্য গর্বিত।" আবার কারওর মতে, "উনি সত্যিই প্রতিভাবান, ওঁর ছবি পরিচালনা করা উচিত।"
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবেও ভারতের হয়ে লাল গালিচায় হেঁটেছিলেন উর্বশী। সেখানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেছিলেন, "আমি যখনই আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, আমি আর উর্বশী থাকি না, আমি তখন স্বয়ং ইন্ডিয়া! কানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের বিখ্যাত ডিজাইনার জোলিপোলির এই সুন্দর পোশাক পরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য যারপরনাই আনন্দের।"
কাজের ফ্রন্টে উর্বশীকে সম্প্রতি দেখা গেছে তাঁর জনপ্রিয় ওটিটি সিরিজ ‘ইন্সপেক্টর অবিনাশ সিজন ২’-এ। নিজের এই কাজ নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রী। তিনি জানান, "ইন্সপেক্টর অবিনাশ সিজন ২ আগের চেয়েও অনেক বড়, সাহসী এবং বিস্ফোরক। অ্যাকশন, ইমোশন আর টুইস্টে ভরপুর এই গল্পের অংশ হতে পেরে আমার দারুণ লেগেছে।"
এখন দেখার, কানের রেড কার্পেট আর ওটিটি-র অ্যাকশন পেরিয়ে উর্বশীর ‘টাইটানিক’ প্রেমকাহিনি কবে ওটিটি বা বড়পর্দায় রূপ পায়!
















