টলিউডের অন্যতম দাপুটে ও বহুমুখী অভিনেতা রজতাভ দত্ত। খলনায়ক থেকে কমেডি— সব চরিত্রেই যাঁর অবাধ যাতায়াত। তবে ইদানীং ওঁর অভিনীত পুলিশ চরিত্রগুলো দর্শকদের মগজে বেশ পাকাপোক্ত জায়গা করে নিচ্ছে। বর্তমানে রজতাভ দত্ত অভিনীত ইন্সপেক্টর নলিনীকান্তকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কিন্তু উত্তরোত্তর বাড়ছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে নিয়ে দু’টি সিজন তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের দর্শকদের কাছে তিনি খুবই গ্রহণযোগ্য একটি চরিত্র হয়ে উঠেছেন।খবর, জনতামহলে ভাল প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁকে তৃতীয়বারের জন্যও ফিরিয়ে আনছে ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। নলিনীকান্তের মধ্যে যেটা সবচেয়ে আকর্ষণীয়, সেটা হল নলিনীকান্ত কিন্ত সুপারকপ নন। তিনি একজন অনুভবী, স্নেহশীল মানুষ। একটু বয়স্ক পুলিশ, কিছুটা অগোছালো, পুরোপুরি সুস্থ নয়; কিন্তু দৃঢ় সংকল্পের আইন রক্ষক। বেজায় মধ্যবিত্ত বাঙালি চরিত্র যেমন হয়, ঠিক তেমনটাই। খেতে ভীষণ পছন্দ করেন, সামনে খাবার দেখলে নিজেকে সামাল দেবেন কীভাবে, তাই বুঝে উঠতে পারেন না। সঙ্গে নিপাট সারল্য, এক কথায় দেখে মনে হবে কোনও সাধারণ অফিসে কর্মচারী। অধিকাংশ সময় অসংলগ্ন কথা বলেন, কিন্তু তারই মধ্যে থেকে কখন যে সে কথায় কথায় আসল সত্যিটা বার করে নেবে, তা বোঝা দায়, এটাই এই চরিত্রের বিশেষত্ব। সব মিলিয়ে চরিত্রটি কিন্তু ফাজিল নয়, বরং খানিক সিরিয়াস গোছের-ই। অন্যদিকে, উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজ প্রযোজিত, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় পরিচালিত ছবি ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’-এও এক তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের চরিত্রেও দেখা যাবে রজতাভ-কে। এই মার্ডার-মিস্ট্রিতে তাঁর চরিত্রটি ইতিমধ্যেই অত্যন্ত আগ্রহের সৃষ্টি করেছে জনতামহলে। ছবিতে রজতাভর অভিনীত চরিত্র ‘বাল্মীকি গড়াই’-এর ঝলক দেখে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে দর্শক। আগ্রহ বাড়ছে নেটভুবনেও।

 

 

স্বাভাবিকভাবেই দুই ভিন্ন মাধ্যমের দুই পুলিশ চরিত্রকে নিয়ে দর্শকদের মনে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। আচ্ছা, নলিনীকান্ত এবং বাল্মীকি -এই দু’জন পুলিশ অফিসার যদি কখনও কোনওদিন মুখোমুখি হয়ে যায়, তাহলে তাঁদের মধ্যে কে কাকে টক্কর দেবে? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্ন শুনে খানিক হেসে উঠলেন রজতাভ দত্ত। তাঁর পর স্বল্প কথায় বললেন, “দেখুন, অভাবে তুলনা করব না। তবে যেটুকু বলব, নলিনীকান্ত চরিত্রটি কিন্তু বেশ সিরিয়াস। এবং সেই চরিত্রটি কিন্তু ভীষণ সফল। সফল বলতে তদন্তের ক্ষেত্রে। এবং রহস্যের তদন্তের একদম কিন্তু ও-ই দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এই ছবিতে কিন্তু বাল্মীকি কিন্তু অন্য কিছুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রহস্যের তদন্তে কাজ করছে। বা এভাবেও বলা ভাল, দর্শকের মিরর হিসেবে কাজ করছে। মানে, দর্শকরাও তো মনে মনে প্রবল অনুসন্ধিনাৎসু হয়ে ওঠেন, তাঁরাও মনে মনে প্রবলভাবে অনুসন্ধান করতে থাকেন পর্দায় বেড়ে চলা রহস্যের। দর্শকের সেই জায়গাটিকেই এই বাল্মীকি গড়াই আরও মিররিং করে এক্সপোজ করছে। কিন্তু তদন্তের কেন্দ্রে সত্যি ও-ই রয়েছে না কি অন্য কেউ, সেটা দর্শক এই ছবি শেষে বুঝবেন। তবে হ্যাঁ, বাল্মীকির বিহাইন্ড দ্য ব্যাক দিয়েই একপ্রকার এই রহস্যের তদন্ত দেখবেন দর্শক। দু'জনের মধ্যে এই হল তফাৎ।” 

 

দুই মেরুর দুই আইনরক্ষকের এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বড়পর্দায় এবং ওটিটি-তে রজতাভ কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দুই মাধ্যমের দর্শকেরা।