পরিচালক ইমতিয়াজ আলি-র সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ দর্শকের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের পটভূমিতে তৈরি এই আবেগঘন ছবি দেখে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরেই বহু দর্শককে চোখের জল মুছতে দেখা যাচ্ছে, যার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তবে এরই মাঝে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ও ট্রোলিং শুরু হয়েছিল, যেখানে এক ব্যক্তিকে পরিচালক ইমতিয়াজ আলি এবং অভিনেতা বেদং রায়না-র সামনে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, ছবিটি প্রচার করার জন্য ওই ব্যক্তিকে ‘পেইড পিআর’ বা টাকা দিয়ে কাঁদানোর জন্য ভাড়া করা হয়েছিল! এবার সেই ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলে সপাট জবাব দিলেন খোদ ওই ব্যক্তি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সিনেমাটি দেখার পর এক ব্যক্তি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ইমতিয়াজ ও বেদংয়ের সামনে কাঁদছেন। এক্স হ্যান্ডেলে এক নেটিজেন ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন-“প্রথমে বেদান্ত রায়নার পিআর টিম একজন লোককে ভাড়া করে বলে যে সিনেমা শেষে পরিচালক আর অভিনেতাদের সামনে গিয়ে কাঁদতে। কিন্তু ওঁর ওভারঅ্যাক্টিং দেখে বেদান্ত নিজেই হাসি চেপে রাখতে না পেরে হেসে ফেলে। এই হাসির ক্লিপটি দেখুন।” নেটপাড়ার অনেকেই এই পোস্টটি দেখে দাবি করতে থাকেন যে, বলিউডে ছবির গুঞ্জন তৈরি করতে আজকাল এই ধরণের সস্তা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই ট্রোলের মুখে আসল সত্য সামনে আনেন ভিডিওতে দৃশ্যমান ওই ব্যক্তি। তিনি কোনও অভিনেতা বা পিআর টিমের সদস্য নন, বরং পেশায় একজন আইনজীবী ও কলামিস্ট, যাঁর নাম দুষ্মন্ত অরোরা। এক্সে ওই ট্রোল ভিডিওর জবাবে রিটুইট করে দুশ্যন্ত সরাসরি লেখেন, “ভিডিওর ওই লোকটা আমিই। আমাকে ভাড়া করা হয়নি। আর বেদং মোটেই হাসছিল না, ও নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল এবং ওঁর চোখেও জল ছিল।”

দুষ্মন্তের এই প্রতিবাদের পরেও এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ওঁকে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে জিজ্ঞেস করেন, “ভাই, ওখানে কে মারা গিয়েছিল যে অত কাঁদছিলেন?” এই নিষ্ঠুর কটাক্ষের জবাবে দুশ্যন্ত যা লিখেছেন, তা পড়ে নেটিজেনদের চোখও ভিজে এসেছে। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় কষ্টের কথা ভাগ করে নিয়ে দুষ্মন্ত লেখেন:“আমার ঠাকুমা মারা গেছেন। সিনেমায় যেভাবে এক দাদু-ঠাকুমার ‘অ্যালঝেইমার্স’  রোগ দেখানো হয়েছে, ঠিক একইভাবে আমার নিজের ঠাকুমারও এই রোগ ছিল। ওঁর চলে যাওয়ার বড়জোড় এক মাস হয়েছে...ধন্যবাদ। আমি জানি আপনি আমাকে কটাক্ষ করছিলেন। কিন্তু ঠিক আছে, কোনও ব্যাপার না।” দুষ্মন্তের এই হৃদয়স্পর্শী উত্তরের পর খোদ ট্রোলাররাও ব্যাকফুটে চলে যান এবং ওঁর এই আবেগকে সম্মান জানাতে বাধ্য হন অনেকেই।

দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, শার্বরী ওয়াঘ এবং বেদং রায়না অভিনীত এই ছবিটি ভালবাসা, হারানোর যন্ত্রণা, স্মৃতি এবং দেশভাগের এক নিখুঁত কোলাজ। 

বক্স অফিসে ছবিটির শুরুটা বেশ ধীরগতির হয়েছিল। মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটি মাত্র ১.১৫ কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু দর্শকদের মুখে মুখে পজিটিভ রিভিউ ছড়ানোর জেরে ছবিটির গ্রাফ ক্রমশ ওপরের দিকে উঠছে। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রথম সোমবার ছবিটির আয় ১.২৫ কোটি টাকা) ওঁরদের ওপেনিং ডের আয়ের চেয়েও বেশি ছিল। এখন দেখার, ইমতিয়াজ আলির এই আবেগঘন ‘ম্যাজিক’ আগামী দিনে বক্স অফিসে কতটা বড় ঝড় তুলতে পারে।