নয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত টলিপাড়ার বাণিজ্যিক ছবির দুনিয়ায় রাজত্ব করেছেন তিনি। ‘বাবা কেন চাকর’, ‘গুরু’ কিংবা ‘এম এল এ ফাটাকেষ্ট’-র মতো একের পর এক অল-টাইম ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়ে যিনি একদা হল-মালিকদের লক্ষ্মীলাভ করিয়েছিলেন, সেই স্বপন সাহা ফের এবার ফের পরিচালকের আসনে বসতে চলেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড়পর্দায় ধামাকা করতে প্রস্তুত তিনি। টলিপাড়া সূত্রে খবর, ওঁর নতুন ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘মন ছুঁই’।জানা গিয়েছে, এই মেগা প্রজেক্টের প্রযোজনার দায়িত্ব যৌথভাবে সামলাচ্ছেন প্রযোজক অসীম কুমার নাগ ও নন্দিতা নাগ। ‘আজকাল ডট ইন’-এর এক সাক্ষাৎকারে স্বপন সাহা নিজেই ওঁর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের খবরে সিলমোহর দিয়েছেন।
নিজের স্বভাবসিদ্ধ নম্র মেজাজে কামব্যাকের খবর নিশ্চিত করে স্বপন সাহা বলেন, “হ্যাঁ, পরিচালনায় ফিরছি। প্রাথমিকভাবে ছবির কথাবার্তা সমস্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এবার খুব তাড়াতাড়ি ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনের কাজ শুরু হবে।”
বর্তমানে বাংলা ছবির ঘরানা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখনকার ‘অর্বান’ বা শহুরে ছবির ভিড়ে তিনি কি ওঁর চেনা ফর্মুলাতেই ভরসা রাখবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান পরিচালকের সাফ কথা— “আমি এত বছর ধরে যেমন ধরনের বাণিজ্যিক ছবি বানিয়ে এসেছি, সেই ধারার ছবি-ই বানাব। ওটা থেকে তো আমি সরতে পারব না। আমার এই নতুন ছবি ‘মন ছুঁই’-ও সেই মাস-অডিয়েন্সের ঘরানার-ই হবে। এর থেকে বেশি এখন আর কিছু বলতে পারব না।”
টলিউডে নতুন প্রতিভাদের তুলে আনার ক্ষেত্রে স্বপন সাহার জুড়ি মেলা ভার। ওঁর হাত ধরেই ইন্ডাস্ট্রির বহু তারকা আজ প্রতিষ্ঠিত। এর আগে ২০১৭ সালে একবার নিজের ‘রিটায়ারমেন্ট’ বা অবসর ভেঙে ‘শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ ছবি দিয়ে কামব্যাক করেছিলেন তিনি। সেই ছবিতেও তিনি এক ঝাঁক নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে ওঁর চেয়েও বড় চমক ছিল সেই ছবিতে বলিউড সেনসেশন সানি লিওনি -র আইটেম ড্যান্স! ওটাই ছিল কোনও বাংলা ছবিতে সানির প্রথম কাজ, যা নিয়ে সেই সময় তুমুল শোরগোল পড়েছিল।
সিনেমার আধুনিক টেকনোলজি বা ট্রেন্ড নিয়ে স্বপন বাবু জানান, ইদানীং থিয়েটারে গিয়ে ছবি দেখতে না পারলেও, বাড়ির টেলিভিশনের পর্দায় এখনকার তরুণ পরিচালকদের সিনেমা তিনি নিয়মিত লক্ষ্য রাখেন বং তাঁদের কাজ ওঁর বেশ ভালই লাগে।
এখন দেখার, দেব-জিৎ বা ফাটাকেষ্ট রূপী মিঠুন চক্রবর্তীকে দিয়ে যিনি একসময় প্রেক্ষাগৃহে খাতা ভর্তি করে টাকা এনেছিলেন, ওঁর সেই চিরপরিচিত ‘স্বপন সাহা মার্কা’ বাণিজ্যিক ঘরানা ২০২৬ সালের আধুনিক দর্শকদের মন কতটা ছুঁতে পারে!















