দুনিয়া কাঁপানো নয়ের দশক। একদিকে কুমার শানুর রোমান্টিক জাদুতে বুঁদ গোটা দেশ, অন্যদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কালো ছায়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বলিউডকে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই আতঙ্কজনক অতীতের এক হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস করলেন কিংবদন্তি এই গায়ক। শানু জানান, সেই সময়ে দুবাইয়ে এক কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের ব্যক্তিগত পার্টিতে গান গাইতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। পেশাগত উচ্চতার সেই স্বর্ণযুগেও কীভাবে মাফিয়া রাজত্বের ভয়ে তটস্থ থাকতে হতো, তা তুলে ধরে গায়ক বলেন, ভয়ের পরিবেশ থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনো বিকল্প ছিল না।

সবাই যখন তাঁর সুরে বুঁদ, পর্দার পেছনের বাস্তবটা তখন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। পডকাস্টে কুমার শানু জানান, সেসময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে এক অদ্ভুত ও ভয়ের সিস্টেম চালু ছিল। হোস্ট যখন গুলশন কুমার হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করান, তখন শানু স্বীকার করেন যে তিনি নিজে অনেক কিছু দেখেছেন এবং নিজের সুরক্ষার খাতিরেই তখন মুখ বুজে নির্দেশ মেনে চলাকেই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেছিলেন।

মাফিয়াদের এই বলয়ে থেকেও কীভাবে তিনি দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন? গায়কের কথায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাবশালী মহলের কিছু লোক তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিল এবং প্রয়োজনে সুরক্ষার প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু শানু সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, "আমার কারও দেখভালের প্রয়োজন নেই, নিজের ভালটা আমি নিজেই বুঝে নেব। "  অর্থাৎ কারও অনুগ্রহ বা নিরাপত্তার ত্রাণের তলায় না গিয়ে নিজের শর্তেই থাকতে চেয়েছিলেন তিনি।

অতীতের এই অন্ধকার অধ্যায় ছাড়াও কুমার শানু বর্তমানে খবরের শিরোনামে রয়েছেন তাঁর আইনি লড়াইয়ের জন্য। নিজের নাম, কণ্ঠস্বর, গায়কী এবং ব্যক্তিত্বের বাণিজ্যিক অপব্যবহার রুখতে গত বছর দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর ক্যারেিক্যাচার, ছবি, সিগনেচার এবং পারফরম্যান্স ম্যানারিজম বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং কপিরাইট আইনের অধীনে তাঁর নৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে—এই আর্জি নিয়েই চলছে আইনি লড়াই।

নয়ের দশকের সেই স্বর্ণালী যুগ থেকে শুরু করে আজও কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন কুমার শানু। 'ধীরে ধীরে সে মেরি জিন্দেগি মে আনা', 'এক সনম চাহিয়ে', কিংবা 'তুঝে দেখা তো ইয়ে '-র মতো চিরসবুজ গানগুলো আজও কিন্তু সমানভাবে মানুষের মুখে মুখে ফেরে।