বলিউডের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান এবং স্পষ্টবক্তা অভিনেতা হলেন ঈশান খট্টর। পর্দায় ওঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনই বাস্তব জীবনে ওঁর বিন্দাস এবং বুদ্ধিদীপ্ত স্বভাবও বেশ প্রশংসিত। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে অনুরাগীদের সাথে একটি ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ অর্থাৎ প্রশ্নোত্তরের আসর বসিয়েছিলেন অভিনেতা। আর সেখানেই ওঁর ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, অত্যন্ত সুন্দর অথচ তুমুল হাসির এক উত্তর দিয়ে নেটপাড়ার মন জয় করে নিলেন ঈশান।
ঈশানের ওই সোশ্যাল মিডিয়া সেশনে এক অনুরাগী ওঁর ধর্ম জানতে চেয়ে লেখেন, “আপনার ধর্ম কী? মানে, আমি এটা নিয়ে খুব কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি।”সাধারণত তারকারা এই ধরনের স্পর্শকাতর বা ধর্মীয় প্রশ্ন এড়িয়ে যান। কিন্তু ঈশান খট্টর বেছে নিলেন এক্কেবারে ভিন্ন পথ। ওঁর চিরাচরিত রসবোধ এবং সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি এক লাইনে লেখেন -“জয় জেসাস, শ্রী আল্লাহ, হোলি স্পিরিট দি ফতেহ!”
সব কটি প্রধান ধর্মের মূল শব্দগুলোকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া ওঁর এই রসিকতা ভরা লাইনটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে শুধুমাত্র হালকা রসিকতাতেই থেমে থাকেননি শাহিদ কাপুরের এই ছোট ভাই। এই মজার সংলাপ লেখার ঠিক পরেই তিনি নিজের পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আসল গভীর উত্তরটি দেন। ঈশান স্পষ্ট জানিয়ে দেন ওঁর কাছে ধর্মের আসল সংজ্ঞাটি কী। তিনি লেখেন, “প্রকৃতি, দয়া, মানবতা এবং সৃষ্টি ।”
নিজের এই সুন্দর বার্তার পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ঈশান একটি চমৎকার ছবিও শেয়ার করেছেন। যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ এবং আকাশে উড়তে থাকা অসংখ্য রঙিন হট-এয়ার বেলুনের মাঝে এক মনোরম প্রকৃতির কোলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অভিনেতাকে।
যাঁরা ঈশানের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানেন না, ওঁরদের মনে এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। আসলে ঈশানের মা, প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী নীলিমা আজিম একটি মুসলিম পরিবারে বড় হয়েছেন। অন্যদিকে, ওঁর বাবা তথা জনপ্রিয় অভিনেতা রাজেশ খট্টর হলেন একজন পাঞ্জাবি হিন্দু।
স্বভাবতই, দুই ভিন্ন সংস্কৃতির আবহে বড় হওয়া ঈশানের চিন্তাভাবনাও অনেক বেশি উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ। উল্লেখ্য, ঈশান হলেন বলিউড তারকা শাহিদ কাপুরের সৎ ভাই। দু'জনেই নীলিমা আজিমের সন্তান। শাহিদ হলেন নীলিমার প্রথম স্বামী তথা কিংবদন্তি অভিনেতা পঙ্কজ কাপুরের পুত্র।
খুব ছোট বয়সেই সিনেমার দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন ঈশান। ২০০৫ সালে ‘ওয়াহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি!’ ছবিতে ওঁর দাদার (শাহিদ কাপুর) সঙ্গে একজন শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম স্ক্রিন শেয়ার করেন তিনি।
এরপর ২০১৭ সালে বিখ্যাত ইরানি পরিচালক মজিদ মজিদির ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’ (ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে ওঁর ডেবিউ হয় বড়পর্দায়। এরপর জাহ্নবী কাপুরের বিপরীতে ‘ধড়ক’, ‘খালি পিলি’, ‘ফোন ভূত’ এবং যুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘পিপ্পা’-তে ওঁর অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়।
সম্প্রতি ঈশানকে দেখা গেছে পরিচালক নীরজ ঘাইওয়ানের ‘হোমবাউন্ড’ ছবিতে, যেখানে ওঁর সাথে ছিলেন বিশাল জেঠওয়া এবং জাহ্নবী কাপুর। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দারুণ সাড়া ফেলেছিল এই ছবি এবং এটি অস্কারের রেসেও বেশ চর্চায় ছিল (যদিও শেষ পর্যন্ত ফাইনাল শর্টলিস্টে জায়গা পায়নি)। তবে ছবির গল্প এবং ঈশানের অভিনয় সমালোচকদের মন জয় করে নিয়েছে।
ঈশানের এই জবাবটি প্রমাণ করে দেয় যে আজকের যুগের তরুণ তারকাদের কাছে সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডির চেয়ে মানবতা এবং প্রকৃতির গুরুত্ব কতটা বেশি। ওঁর এই ‘অল-ইন-ওয়ান’ উত্তরকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।















