বলিউডের রোম্যান্টিক-কমেডি ঘরানার সিনেমার কথা বললে ২০০৭ সালের ‘জব উই মেট’ ছবিটির নাম সবার আগে আসে। শাহিদ কাপুর এবং করিনা কাপুর অভিনীত ‘আদিত্য’ ও ‘গীত’-এর রসায়ন আজও দর্শকদের মনে সমান সতেজ। কিন্তু এই কালজয়ী ছবিটিকে ঘিরে একটা মস্ত বড় ‘ইনসাইড স্টোরি’ বা ভেতরের ইতিহাস রয়েছে, যা হয়তো অনেকেই জানেন না। এই ছবির ‘আদিত্য’ চরিত্রের জন্য শাহিদ কাপুর প্রথম পছন্দ ছিলেন না, বরং ছবিটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল ববি দেওল-কে নিয়ে!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক ইমতিয়াজ আলি এই কাস্টিংয়ের পেছনের আসল সত্য এবং ববি দেওলের সঙ্গে ওঁর বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে খোলসা করেছেন। তিনি জানান, আজ এতদিন পরেও ববি দেওল মজার ছলে ওঁকে সেই ‘বাদ পড়ার’ ঘটনাটি মনে করিয়ে দেন!ইমতিয়াজ আলি জানান, ছবিটির প্রাথমিক পরিকল্পনা ববি দেওলের সাথেই করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় কোনও এক অজ্ঞাত কারণে প্রজেক্টটি আটকে ছিল এবং এগোচ্ছিল না। ঠিক সেই সময় ছবিটির ভাগ্য বদলে দেন শাহিদ কাপুর।
আসলে শাহিদ কাপুর ইমতিয়াজের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সম্পূর্ণ অন্য একটি সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করতে। কিন্তু কথার মাঝেই শাহিদ হঠাৎ ইমতিয়াজকে জিজ্ঞেস করেন, ওঁর কাছে ট্রেন জার্নি বা ট্রেন যাত্রার ওপর ভিত্তি করে কোনও স্ক্রিপ্ট আছে কি না। কারণ শাহিদ সেই চরিত্রটি করতে ভীষণ আগ্রহী ছিলেন।
ইমতিয়াজ প্রথমে ভেবেছিলেন শাহিদকে এই চরিত্রের জন্য বড্ড কম বয়সী দেখাবে। কিন্তু শাহিদ পিছু হঠেননি, তিনি পরিচালককে আশ্বস্ত করে বলেন যে তিনি চরিত্রের খাতিরে ওঁর হেয়ারস্টাইল বদলে ফেলবেন এবং চশমা পরবেন যাতে ওঁকে একটু পরিণত দেখায়। ওঁর এই নিষ্ঠা দেখেই ইমতিয়াজ রাজি হন। অন্যদিকে করিনা কাপুর বরাবরই ইমতিয়াজের প্রথম পছন্দ ছিলেন, এবং শাহিদ নিজেই করিনা ও ওঁর জন্য একটি যৌথ স্ক্রিপ্ট রিডিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে ইমতিয়াজকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ববি দেওলকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার পর ওঁরদের সমীকরণে কোনও প্রভাব পড়েছিল কি না। জবাবে ইমতিয়াজ বলেন, ওঁরদের বন্ধুত্ব আজও অটুট।ইমতিয়াজ সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, “সেই সময় আমি এমন একজন পরিচালক ছিলাম যাঁর কোনও ছবি তখনও রিলিজ করেনি, আমার আগের কাজ খুব একটা ভাল চলেনি। কিন্তু ববি এবং আমি একে অপরের জন্য যেকোনও কিছু করতে পারতাম।”
পরিচালক জানান, ওঁরদের মধ্যে আজও খুব ভাল যোগাযোগ রয়েছে এবং ওঁরদের সম্প্রতি কথাও হয়েছে। তবে ববি আজও ফোন করলে রসিকতা করে পুরোনো ক্ষোভ উগরে দেন। ইমতিয়াজের ভাষায়:“ও যখনই কথা বলে, ওঁর চেনা মেজাজে হাসতে হাসতে বলে— ‘ইয়ার, তুই আমার সঙ্গে এমনটা করলি!’ হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে এই অভিযোগ-অনুযোগ চলতেই থাকে।”
মজার ছলে অভিযোগ করলেও, ‘জব উই মেট’ হাতছাড়া হওয়া যে ববি দেওলের কেরিয়ারের জন্য একটা বড় ধাক্কা ছিল, তা অভিনেতা নিজেই আগে স্বীকার করেছিলেন। ‘আপ কি আদালত’-এ এসে ববি অকপটে জানিয়েছিলেন, এই সিনেমাটি হাতছাড়া হওয়ায় তিনি মনে মনে ভীষণ আঘাত পেয়েছিলেন। কারণ ওঁর কেরিয়ারের তৎকালীন পরিস্থিতিতে এই ধরণের একটি পোক্ত এবং হিট সিনেমার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
















