স্বাধীনতার পর গণতন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি -ভোটাধিকার সবার জন্য নিশ্চিত করা। সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের নেপথ্য গল্পই এবার পর্দায় আনছে নেটফ্লিক্স। সইফ আলি খান অভিনীত নতুন পিরিয়ড ড্রামা ‘হম হিন্দুস্তানি’ তুলে ধরবে স্বাধীন ভারতের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অজানা অধ্যায়।
মঙ্গলবার নেটফ্লিক্সের বিশেষ ঘোষণায় ‘হম হিন্দুস্তানি’ ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছে। পরিচালক রাহুল ঢোলাকিয়ার এই ছবিতে সইফের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন প্রতীক গান্ধী। প্রযোজনায় মনীষা আডবাণী, মধু ভোজওয়ানি ও নিখিল আদবানি।
ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৫০ সাল। সদ্য স্বাধীন দেশে তখন গণতন্ত্র এখনও কাগজে-কলমে। সইফ আলি খান অভিনীত চরিত্রটি সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন, যে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছিলেন একাধিক দেশীয় রাজা ও ক্ষমতাবান গোষ্ঠী। অন্যদিকে প্রতীক গান্ধীকে দেখা যাবে এক দায়িত্ববান পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়, যাঁর কাজ অশান্তি ও রক্তক্ষয়ী ঝামেলার আশঙ্কার মধ্যেও নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা।
ছবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,“নব্য স্বাধীন ভারতে একদল সরকারি কর্মী বিশৃঙ্খলা, প্রতিরোধ এবং অসম্ভব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে কীভাবে দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্পন্ন করেন। সেটাই তুলে ধরা হয়েছে সত্য ঘটনা অবলম্বনে।”
প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই ছবি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার, ভোটের অধিকারকে সম্মান জানানো। মাঠে নেমে কাজ করা মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই গল্প বলা হয়েছে। তাঁদের ভাষায়, এটি বিশ্বাস, সাহস ও সম্মিলিত প্রয়াসের গল্প, যা আজকের ভারতকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
চিত্রনাট্যের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে শক্তিশালী আবহ, সময়োপযোগী নির্মাণ ও আদালত-কেন্দ্রিক টানটান মুহূর্ত। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন দিয়া মির্জা, তিলোত্তমা সোম ও সঞ্জিদা শেখ।উল্লেখযোগ্যভাবে, সইফ আলি খানকে শেষ কয়েক বছরে বেছে বেছে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতীক গান্ধী এই ছবিতে আবারও এক দায়িত্বশীল, দৃঢ়চেতা চরিত্রে ধরা দেবেন, যা তাঁর অভিনয়গ্রাফে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
‘হম হিন্দুস্তানি’ কবে মুক্তি পাবে, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে নেটফ্লিক্স তাদের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের তালিকায় ছবিটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। সব মিলিয়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও মানবিক লড়াইয়ের এই গল্প যে দর্শকের কৌতূহল অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
