সাম্প্রতিক সময়ে শঙ্কর চক্রবর্তীর স্বাস্থ্য নিয়ে নানান জল্পনা শুরু হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল টলিপাড়ার অন্দরেও। আর এই গুঞ্জন আরও তীব্র হয়েছিল বর্ষীয়ান অভিনেতার সাম্প্রতিক সময়ের ছবি দেখে।  অনেকটাই ওজন কমেছে অভিনেতার। ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে থাকে হঠাৎ এতটা ওজন কমল কীভাবে? টলিপাড়ার অন্দরেও ছড়িয়ে পড়ে ফিসফাস। কেউ কেউ ধরে নেন, বর্ষীয়ান অভিনেতা বুঝি কোনও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন।

শেষমেশ সেই সব গুজবের অবসান ঘটাতে খানিক বাধ্য হয়েই সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন শঙ্কর চক্রবর্তী। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিনেতা স্পষ্ট করে জানান, তিনি অসুস্থ নন। বরং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। নিজের পোস্টে শঙ্কর লেখেন, তিনি ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ৯৭ কেজি থেকে ৭৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন এবং তাঁর অসুস্থতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার না করার অনুরোধ জানান।

 

এই প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওজন কমার নেপথ্য কারণও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন অভিনেতা। শঙ্কর জানান, প্রয়াত ঋতুপর্ণ ঘোষের ভাই পরিচালক ইন্দ্রনীল ঘোষ তাঁকে একটি ছবির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গল্পে ছিল এক দম্পতি ও এক রিক্সাচালকের চরিত্র। সেই ছবির প্রয়োজনে তাঁকে ওজন কমাতে বলা হয়। ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিদিন তিন কিলোমিটার হাঁটা ও বাড়িতে ওয়েট ট্রেনিংও চলছিল নিয়মিত।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রযোজক পিছিয়ে যাওয়ায় ছবিটি আর হয়নি। কিন্তু ততদিনে ডায়েট ও ব্যায়াম তাঁর জীবনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। শঙ্করের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে ওজন বেড়ে যাওয়ায় নিজেই অস্বস্তিতে ভুগছিলেন তিনি। ওজন কমার পর নিজেকে অনেক বেশি ফিট ও ঝরঝরে মনে হচ্ছিল। তাই সেই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই মুহূর্তে দেবাশিসের পরিচালনায়, শেখর সমাদ্দারের লেখা নাটক ‘সরলরেখা বক্ররেখা’-তে অভিনয় করছেন শঙ্কর চক্রবর্তী। সেখানে তাঁর চরিত্রটি একজন পুলিশ অফিসারের। অভিনেতার কথায়, বর্তমান শারীরিক গঠন এই চরিত্রের সঙ্গে একেবারেই মানানসই হয়ে গিয়েছে। নাটকটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং মঞ্চে রয়েছেন স্বয়ং শেখর সমাদ্দারও।

 

তবে বিষয়টি শুধু গুজবেই থেমে থাকেনি। শঙ্কর জানান, এই অসুস্থতার রটনা তাঁর পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে কেউ প্রশংসা করছিলেন নতুন চেহারার জন্য, আবার অনেকেই সরাসরি অসুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। শুরুতে বিষয়টি হাসিমুখে এড়িয়ে গেলেও, একসময় তা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

এর পাশাপাশি একটি ঘটনা তাঁকে আরও উদ্বিগ্ন করে তোলে। সম্প্রতি কলকাতার উপকণ্ঠে একটি কল শো করার কথা ছিল তাঁর। শো-এর কয়েকদিন আগে আয়োজকদের তরফে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়, তিনি আদৌ অনুষ্ঠানটি করতে পারবেন কি না। কারণ সমাজমাধ্যম থেকে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন, অভিনেতা নাকি গুরুতর অসুস্থ। শো চলাকালীন কিছু হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে এই আশঙ্কাতেই প্রশ্ন।

অনেকক্ষণ ধরে কথা বলে আয়োজকদের আশ্বস্ত করতে হয় তাঁকে। সেদিনই শঙ্কর বুঝতে পারেন, এই গুজব আর নিছক ব্যক্তিগত বিষয় নেই, তা তাঁর পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করছে। সেই কারণেই আর চুপ না থেকে সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা।

সব মিলিয়ে শঙ্কর চক্রবর্তীর বক্তব্য একটাই, রোগ নয়, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁর চেহারার পরিবর্তনের কারণ। আর তিনি আজও যেমন মঞ্চে ও পর্দায় সক্রিয়, তেমনই শারীরিক দিক থেকেও সম্পূর্ণ সুস্থ।