ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘শোলে’ কেবল একটি ছবি নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী আবেগ। গব্বর সিং, জয়-বীরু কিংবা বসন্তীর মতো চরিত্রগুলো আজও দর্শকদের মণিকোঠায় উজ্জ্বল। সেই কালজয়ী সৃষ্টির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি মায়ানগরীতে বসেছিল চাঁদের হাট। আর সেই বিশেষ মুহূর্তকে উদযাপন করতে এক মঞ্চে ধরা দিলেন পরিচালক রমেশ সিপ্পি এবং ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনী। 'শোলে' যে আর তৈরি হবে না তা আগেই জানিয়েছিলেন পরিচালক।
এদিন ‘সোসাইটি অ্যাচিভার্স’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে এই দুই কিংবদন্তিকে একসঙ্গে দেখে আবেগে ভাসলেন অনুরাগীদের রা। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শোলে’র সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিলেন হেমা। অনুষ্ঠানে হেমার উপস্থিতি যেন অনুষ্ঠান চত্বরে এক আলাদা গ্ল্যামার ছড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, পরিচালক রমেশ সিপ্পিকেও দেখাচ্ছিল বেশ প্রফুল্ল।
কিংবদন্তি পরিচালক রমেশ সিপ্পি এবং বলিউডের 'ড্রিম গার্ল' হেমা মালিনীর সেই কালজয়ী রসায়ন আবারও ধরা পড়ল সাম্প্রতিক এই অনুষ্ঠানে। উপলক্ষ ছিল 'সোসাইটি অ্যাচিভার্স' ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ উন্মোচন, যেখানে রমেশ সিপ্পি ও তাঁর স্ত্রী কিরণ জুনেজার উপস্থিতিতে কভারটি উন্মোচন করেন হেমা মালিনী। সেই মুহূর্তটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছিল এক আবেগময় স্মৃতিচারণে।
সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাণ আজকের মতো সহজ ছিল না; তাতে জড়িয়ে ছিল প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম, আবেগের সততা আর একে অপরের প্রতি গভীর সৃজনশীল বিশ্বাস। হেমা মালিনী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, রমেশ সিপ্পির সঙ্গে তার কাজের ভিত্তি ছিল নিছক পেশাদারিত্বের চেয়েও বেশি কিছু। যখন 'শোলে' ছবির কাস্টিং চলছিল, তখন পরিচালক স্বয়ং দ্বিধায় ছিলেন হেমাকে বাসন্তী চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেবেন কি না। সেই সময় হেমা মালিনী ছিলেন সাফল্যের তুঙ্গে, আর 'শোলে' ছিল একঝাঁক শক্তিশালী তারকায় ঠাসা ছবি। এমন একটি বড় ক্যানভাসের ছবিতে অনেক চরিত্রের ভিড়ে হেমা অভিনয় করবেন কি না, তা নিয়ে রমেশ সিপ্পি ইতস্তত বোধ করছিলেন।
কিন্তু হেমা মালিনী সেই মুহূর্তে তাঁর তারকা ইমেজের চেয়ে পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বেশি আস্থা রেখেছিলেন। কোনও দ্বিধা ছাড়াই তিনি এই চরিত্রের জন্য সম্মতি দেন। নিজের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে গল্পের প্রতি এই সমর্পণই পরবর্তীতে ইতিহাস তৈরি করে। অনুষ্ঠানে তাঁদের কথোপকথনে স্পষ্ট ফুটে ওঠে যে, সেই সখ্যতা কেবল কাজের ছিল না, তা ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের। রমেশ সিপ্পিও কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন যে, হেমা মালিনীর মতো সেই ছবির প্রতিটি শিল্পীই তাঁদের কাজের প্রতি একই রকম বিশ্বস্ত ছিলেন।
বিগত কয়েক দশকে ভারতীয় সিনেমা বদলেছে অনেকখানি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এসেছে আধুনিকতা। কিন্তু ‘শোলে’র মতো ক্লাসিক ছবি আজও প্রমাণ করে যে, ভাল গল্প আর দক্ষ পরিচালনা থাকলে তা যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। ৫০ বছর পার করেও রমেশ সিপ্পি আর হেমা মালিনীর এই যুগলবন্দি যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
