বলিউডের ‘ঝাকাস’ নায়ক অনিল কাপুরের ছেলে এবং সোনম কাপুরের ভাই হওয়ায় লাইমলাইট হর্ষবর্ধন কাপুরের ওপর প্রায় সময়ই থাকে। তবে ২০১৬ সালে ‘মির্জা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করার পর থেকেই ওঁর কেরিয়ারের গ্রাফটা বাকি পাঁচজন তারকা-সন্তানের মতো ছিল না। তিনি বাণিজ্যিক মসলা ছবির চেনা ছক ভেঙে ‘ভাবেশ জোশী সুপারহিরো’ কিংবা ‘একে ভার্সেস একে’-র মতো অন্যধারার ছবি বেছে নিয়েছেন।
২০২২ সালে নেটফ্লিক্সের ‘থার’ ছবিতে ওঁর আপাতভাবে শেষ পারফরম্যান্সের পর দীর্ঘ চার বছর রূপোলি পর্দায় দেখা মেলেনি ওঁর। আর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেখেই নেটপাড়ার অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হর্ষবর্ধন বোধহয় অভিনয় দুনিয়াকে বিদায় জানিয়েছেন! সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক অনুরাগী ওঁর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশংসা করার পাশাপাশি ওঁর কেরিয়ারের ‘অস্তিত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই সপাট জবাব দিলেন অনিল-পুত্র। খোলসা করলেন ওঁর এই চার বছরের রহস্য।
এক্স-এ এক অনুরাগী হর্ষবর্ধনকে “অত্যন্ত প্রতিভাবান” বলে অভিহিত করে লেখেন— যদিও ওঁর সিনেমাগুলো বক্স অফিসে বড় ব্লকবাস্টার বা সুপারহিট তকমা পায়নি, তাও ওঁর হাল ছাড়া উচিত নয় এবং ওঁর লড়াই জারি রাখা উচিত। ভক্তের এই ‘সান্ত্বনা’ এবং ফ্লপ ছবির খোঁটা একেবারেই হালকাভাবে নেননি অভিনেতা। জবাবে বেশ কড়া ও যুক্তিসঙ্গত ভাষায় হর্ষবর্ধন লেখেন, “আমি অভিনয় থেকে একেবারেই সরে আসিনি বা বিরতি নিইনি। ‘থার’ মুক্তি পাওয়ার পরদিন থেকেই আমি একটা নতুন ছবির কাজ শুরু করে দিয়েছি। ‘থার’ ছবিটি তৈরি করতে আমাদের পাক্কা ৫ বছর সময় লেগেছিল। বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের ‘ভাবেশ জোশি’ বানাতেও বহু বছর লেগেছিল। আর আমি এখন যে ছবিটা নিয়ে কাজ করছি, সেটা শেষ করতে আমার বিগত ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগেছে। চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখেই (৩০ জুন, ২০২৬) আমি এই ছবির শুটিং শেষ করতে চলেছি। শুধু অভিনয় নয়, এই ছবিটির সহ-প্রযোজনাও করছি আমি।”
I haven’t stepped back at all been working on a new one since the day thar released it took 5 years to get thar made .. it took many years for vikram to make bhavesh and its taken me 2-3 years now to finish this film ok working on which I finish filming on June 30 th.. I’m also… https://t.co/OOSYOnAp4s
— Harsh Varrdhan Kapoor (@HarshKapoor_)Tweet by @HarshKapoor_
বলিউডের চেনা ইঁদুরদৌড়কে কটাক্ষ করে হর্ষবর্ধন আরও যোগ করেন, “আসলে সাধারণ মানুষ বছরে অভিনেতাদের একাধিক সিনেমা করতে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। আপনি যদি ‘ভাবেশ জোশি’, ‘থার’, ‘একে ভার্সেস একে’ কিংবা ‘রে’-র মতো একদম অন্য ঘরানার সিনেমা দেখতে চান, তবে সেটা বছরে এক-দু’বার বানানো কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এটাই বাস্তব। তবে আপনার প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ। আর এটুকু বলতে পারি, আমার এই নতুন ছবিটি ওঁদের করা সমস্ত কাজের মধ্যে সেরা এবং এটি একটি অত্যন্ত অনন্য বা ইউনিক প্রজেক্ট হতে চলেছে।”
উল্লেখ্য, হর্ষবর্ধন কাপুরের ওলিম্পিক সোনা জয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রার বায়োপিকে অভিনয় করার কথা ছিল। ওঁর বাবা অনিল কাপুরও এই ছবিতে ওঁর অন-স্ক্রিন বাবার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বহু বছর ধরে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলার পর, দুর্ভাগ্যবশত গত এপ্রিল ২০২৫-এ এই মেগা বায়োপিক প্রজেক্টটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আপাতত হর্ষবর্ধন ওঁর নতুন ছবির নাম বা বিশদ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও, আগামী ৩০ জুনের পর ওঁর এই ‘সিক্রেট’ প্রোডাকশন নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা আসতে চলেছে বলেই মনে করছে বি-টাউন।















