কলকাতার বুকে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। সেই রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলন, আমজনতার তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ঘটনার অন্তরালে থাকা ‘অজানা সত্য’ এবার সেলুলয়েডে উঠে আসতে চলেছে। তিলোত্তমার বুকে ঘটে যাওয়া সেই আরজি কর কাণ্ডকে এবার রূপালি পর্দায় তুলে আনতে চলেছেন পরিচালক তথা বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা । ছবিটির নাম রাখা হয়েছে ‘অভয়া শক্তি’। আর এই হাই-ভোল্টেজ প্রজেক্টের প্রযোজনার দায়িত্বে থাকছেন টলিউডের অন্যতম চর্চিত ও জাতীয় পুরস্কারজয়ী প্রযোজক রাণা সরকার।

ছবিটির ঘোষণা হওয়া মাত্রই বিনোদন জগতের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আরজি করের ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতার বিচার চেয়ে এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে পথে নেমে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছিল পদ্ম শিবির, আর ছবির পরিচালক খোদ সেই শিবিরেরই এক পরিচিত মুখ।

 

 

ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে এক নারী চিকিৎসকের ব্যাক-প্রোফাইল (পেছন দিক)। তাঁর এক হাতে যেমন রয়েছে চিকিৎসকের প্রতীক স্টেথোস্কোপ, তেমনই অন্য হাতে ধরা রয়েছে রুদ্রমূর্তিধারী এক ধারালো ত্রিশূল। আর ছবির ট্যাগলাইনে লেখা রয়েছে— ‘শি কেয়ারস। শি ফাইটস।শি এমপাওয়ার্স।’ আরজি করের নির্যাতিতাকে ভালোবেসে আমজনতা ও আন্দোলনকারীরা যে ‘অভয়া’ নাম দিয়েছিলেন, সেই নামকেই শিরোনামে রেখে রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে লড়াইয়ের গল্প বুনেছেন পরিচালক।

আজকাল ডট ইন-একে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক শঙ্কুদেব পণ্ডার দাবি, এই ছবিতে এমন কিছু রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যের বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরা হবে যা সাধারণ মানুষের ভাবনার অতীত। ওঁর কথায়, “এই কাণ্ডের এমন সব অজানা তথ্য ছবিতে উঠে আসবে, যা দর্শকরা কল্পনাও করতে পারবেন না। সেদিন রাতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, তা দেখাবে এই ছবি। এমন অনেক কিছু দেখানো হবে যা আপনাদের কল্পনাতীত।”

 

ছবির চরিত্রদের নিয়ে খোলসা করে পরিচালক জানান, বাস্তবের কোনও মানুষের নামে ছবির চরিত্রদের নামকরণ করা হবে না। কারণ তা নৈতিক এবং আইনি— কোনও দিক থেকেই ঠিক নয়। তবে হ্যাঁ, চরিত্রগুলোর ভাববিনিময় এমন হবে যে স্ক্রিনে দেখামাত্রই সাধারণ মানুষ মিল পাবেন এবং বুঝতে পারবেন ঠিক কাদের ইঙ্গিত করা হচ্ছে।

 

ছবিটি নিয়ে ছড়ানো বেশ কিছু গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে শঙ্কুদেব স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি আগে এই ছবি তৈরির সময় পাননি। এবং সে দায় তাঁর। তিনি প্রথমবার রানা সরকারকেই এই ছবির পরিকল্পনা জানান এবং শোনামাত্রই রাজি হয়ে যান প্রযোজক।

 

একটু দেরিতে ছবি তৈরির আক্ষেপ প্রকাশ করে শঙ্কুদেব জোর গলায় বলেন,“এই ছবি দেরি করে তৈরি করছি, সে দায় সম্পূর্ণ আমার। আমার আরও আগেই এটা করা উচিত ছিল। এই ছবিতে সেই সব ইস্যু তুলে ধরা হবে যা লোকমুখে স্রেফ ‘মিসম্যানেজমেন্ট’ হিসেবে ফেরে, কিন্তু আমার কাছে সেই ঘটনাগুলোই আসলে বড় ‘অপরাধ’! অভয়া-কাণ্ডে কিছু কিছু সরকারি বা তদন্তকারী এজেন্সি এমন নির্বোধের মতো কাজ করেছিল, যা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যেতে হয়। ছবিতে তাদেরও আমি ছাড়ব না। ঠিক যেমন করে দেখানো হবে কীভাবে প্রথম থেকে এই গোটা ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল!”

 

বাস্তব জীবনের এক চরম ট্র্যাজেডি এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের এই প্রেক্ষাপট সেলুলয়েডের পর্দায় কতটা সততার সঙ্গে ফুটে ওঠে এবং তা টলিপাড়া তথা রাজনৈতিক মহলে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

 

কী চাপার চেষ্টা হয়েছিল, কী কি প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল। মানুষ যা যা জানেন না, তা জানতে পারবেন। আমরা মনে করি না এটা স্রেফ একটি ছবি। আমার ব্যক্তিগত মত, একটি বিরাট আন্দোলনের বহু তথ্যের হত্যার জ্বলন্ত প্রতিবিম্ব হতে চলেছে ‘অভয়া শক্তি’।

 

চলতি বছর ক্রিসমাসে মুক্তি পাবে এই ছবি। সেকথাও যৌথভাবে জানিয়ে দিলেন পরিচালক এবং প্রযোজক।