২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ-এর ফাইনাল ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একদিকে লিওনেল মেসির বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণ, অন্যদিকে মাঠের বাইরে গ্ল্যামার দুনিয়ার এক অনন্য নজির। প্রথম ভারতীয় তারকা হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি উন্মোচন করে বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন বলিউড কুইন দীপিকা পাড়ুকোন। স্পেনের কিংবদন্তি তথা বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ইকের ক্যাসিয়াস-এর সঙ্গে ট্রফি বক্সে হাত দিয়ে দীপিকার সেই চওড়া হাসি কোটি কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছিল।

কিন্তু ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর এই চরম গৌরবের মুহূর্তেই দীপিকার সাজগোজ বা ‘লুক’ নিয়ে তৈরি হয়েছিল মস্ত এক বড় বিতর্ক। ওঁর সেই ঐতিহাসিক পোশাক প্রশংসার বদলে নেটপাড়ায় কুড়িয়েছিল দেদার ট্রোলিং আর সমালোচনা!

 

 

বিশ্বখ্যাত লাক্সারি ব্র্যান্ড লুই ভিতো-এর গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর দীপিকা পাড়ুকোন। স্বভাবতই বিশ্বকাপের ট্রফিটি যে বিশেষ কাস্টমাইজড ট্রাভেল ট্রাঙ্কে করে আনা হয়েছিল, তা লুই ভিতোর তৈরি। আর সেই কারণে দীপিকার পরনের পোশাকটিও ছিল এই নামী ফরাসি ফ্যাশন হাউসেরই ডিজাইন করা।

সেই অনুষ্ঠানে দীপিকা পরেছিলেন একটি ধবধবে সাদা শার্ট, ওঁর ওপর একটি খাকি রঙের স্লিভলেস চামড়ার জ্যাকেট আর নীচে ঢিলেঢালা কালো প্যান্ট ও চওড়া বেল্ট। দীপিকার আত্মবিশ্বাস আর গ্ল্যামারে কোনও খামতি না থাকলেও, ওঁর এই খাপছাড়া পোশাক নির্বাচন মোটেও মেনে নিতে পারেননি ওঁর অন্ধ ভক্তরাও। লুই ভিতোর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্ট বক্সে সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়।

দীপিকার এই অদ্ভুত কম্বিনেশনের পোশাক দেখে নেটিজেনরা ফ্যাশন হাউস এবং দীপিকাকে ধুয়ে দিয়ে যে সমস্ত কমেন্ট করেছিলেন নেটপাড়ার বাসিন্দারা, তা ছিল সত্যিই দেখার মতো। 

 

এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন: “লুই ভিতো! তোমরা দীপিকাকে এর চেয়ে ভাল কিছু অন্তত পরাতে পারতে। ওঁর সঙ্গে কেন বারবার এমনটা করো তোমরা, কেন??” অন্য একজনের চরম রসিকতা— “কিন্তু ওঁর পোশাকটা দেখে মনে হচ্ছে ও যেন নিজেই একটা ডাফেল ব্যাগ (সফরের সময় যে ব্যাগ ব্যবহার করা হয়) পরে দাঁড়িয়ে আছে!”

 

তৃতীয় এক নেটিজেনের চাবুক মন্তব্য ছিল, “লুই ভিতোর কালেকশনে এত সুন্দর সুন্দর গ্ল্যামারাস পোশাক ছিল, যা এই বিশ্বমঞ্চের সাথে মানাতো। ওঁর চুল থেকে শুরু করে জামাকাপড়— সবকিছুই ১০০ গুণ ভাল হতে পারত। একদম সর্বোচ্চ স্তরে এসে এত বড় ফ্যাশন বিপর্যয় বা ভুল মেনে নেওয়া যায় না!”

পোশাক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যতই কাটাছেঁড়া হোক না কেন, দীপিকার এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বকে খাটো করতে পারেনি কোনও ট্রোলিং। ট্রফি উন্মোচনের পর গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার সেই রুদ্ধশ্বাস জয় এবং এমবাপে-মেসির দ্বৈরথ জমিয়ে উপভোগ করেছিলেন দীপিকা। ওঁর পাশে ছিলেন স্বামী তথা বলি অভিনেতা রণবীর সিং। স্ত্রীর এই বিশ্বজোড়া সাফল্যে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে রণবীর যেভাবে চিৎকার করে দীপিকাকে চিয়ার করেছিলেন, সেই ভালবাসার মিষ্টি ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ট্রোলারদের মুখে সপাট ঝামা ঘষে দিয়েছিল।

 

ফ্যাশন দুনিয়ায় হিট বা মিস হতেই পারে, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি উন্মোচন করা প্রথম ভারতীয় হিসেবে দীপিকা পাড়ুকোনের নাম যে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই!