অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী অর্চনা পূরণ সিং। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বামী পরমিত শেঠির সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকের এক অজানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। যা শুনে রীতিমতো অবাক অনুরাগীরা।

অভিনেত্রীর কথায়, বিয়ের চার বছরের মাথায় প্রথমবার গর্ভধারণ করেছিলেন তিনি। তখন একটি ছবির শুটিংয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন অর্চনা। কিন্তু শুটিং চলাকালীনই ঘটে যায় বড় বিপত্তি! হঠাৎই গর্ভপাত হয় তাঁর। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৪ বছর। মানসিকভাবে সন্তানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সেই আকস্মিক ক্ষতি তাঁকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। অর্চনা জানান, তাঁর তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরমিত তখন পিতৃত্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। স্ত্রীর সেই কষ্ট দেখে পরমিত এক সময় বলেই ফেলেন যে তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সন্তানের কোনও দরকারই নেই।

তবে এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে ফের মা হওয়ার সময়গুলোতেও চরম একাকীত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার প্রথম মাসগুলোতে শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন অর্চনা। শরীরের ওজনও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে স্বামীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য বা মানসিক সমর্থন তিনি পাননি বলেই জানান। বরং সেই দিনগুলোতে পরমিত নিজের মতো করে খেলাধুলা ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোয় মন দেওয়ায়, অর্চনার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

পরবর্তীকালে পরমিত অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। সেই সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব না বোঝার জন্যই যে তিনি অর্চনার পাশে দাঁড়াতে পারেননি, তা স্বীকার করেছেন অভিনেতা। তবে সমস্ত ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে আজ দীর্ঘ দাম্পত্যের পথে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন এই তারকা দম্পতি।