ফারহান আখতারের মেগা প্রজেক্ট ‘ডন ৩’ থেকে আচমকা ওয়াকআউট এবং তার জেরে বলিউডে অলিখিত ‘ব্যান’ বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া— সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ঝড়ের মুখোমুখি অভিনেতা রণবীর সিং। গত সোমবার (২৫শে মে) ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর তরফে ওঁর বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা নির্দেশিকা’ জারি করার পর থেকেই উত্তাল বলিপাড়া। শুধু তাই নয়, প্রযোজনা সংস্থা ‘এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট’-এর তরফেও প্রাক-প্রোডাকশনের বিপুল ক্ষতির খেসারত হিসেবে রণবীরের কাছে ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে!

পেশাদার জীবনের এই চরম সংকট ও মানসিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আধ্যাত্মিকতার আশ্রয় নিলেন অভিনেতা। সম্প্রতি আধ্যাত্মিক গুরু সদ্গুরু -র মুখোমুখি হয়েছিলেন রণবীর। খোদ সদ্গুরুর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে জীবনের আসল অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজছেন অভিনেতা।


ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির শুরুতেই রণবীর সিংকে বলতে শোনা যায়, “গতকাল আমি একটা টুইট (এক্স) করে জানিয়েছিলাম যে আমি আগামীকাল সদ্গুরুজির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। ওনাকে আমার কী প্রশ্ন করা উচিত? ওঁর জবাবে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের একটাই প্রশ্ন ছিল— জীবনের আসল উদ্দেশ্য বা মানে কী? ”

 

রণবীরের এই গভীর ও দার্শনিক প্রশ্নের জবাবে সদ্গুরু ওঁর চেনা মেজাজে বুঝিয়ে দেন,“তুমি যখন জিজ্ঞেস করছ জীবনের উদ্দেশ্য কী, তার মানে তুমি আসলে জানতে চাইছ জীবনের ‘ব্যবহার’ বা উপযোগিতা কী। সত্যি বলতে, এর কোনো উপযোগিতা নেই! তুমি যদি জন্মেও না নিতে, তাও পৃথিবীর সব কিছু এক্কেবারে ঠিকঠাক চলত। বিশ্বাস করো, আসলে আরও ভালোই হতো। জীবনের কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নেই। এই জিনিসটির উদ্দেশ্য কী, ওটার ব্যবহার কী— এই ধরণের বস্তুবাদী ও যুক্তিহীন হিসেব-নিকেশের অনেক ঊর্ধ্বে হলো জীবন। এটা আসলে একটা মহাজাগতিক ঘটনা, যা মানুষের বুদ্ধির চেয়েও অনেক বেশি বড়।”


ফেডারেশনের অভিযোগ, ‘ডন ৩’ বিতর্ক নিয়ে রণবীরকে একাধিকবার সশরীরে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। আর ওঁর পরেই ওঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ওপর যোগ হয়েছে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ৪৫ কোটির আর্থিক নোটিশ।

যদিও এই সমস্ত বিতর্কের মাঝে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এড়াতে রণবীরের মুখপাত্র একটি পরিণত বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন -“ডন ৩-কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সমস্ত ঘটনার মাঝেও রণবীর সচেতনভাবে নীরবতা বজায় রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন পেশাদার আলোচনা এবং ব্যক্তিগত সমীকরণ সবসময় মর্যাদা, পরিপক্কতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে সামলানো উচিত। বাইরে হওয়া কোনও জল্পনায় তিনি পা দিতে চান না এবং ওঁর সম্পূর্ণ ফোকাস এখন আগামী কাজের দিকে।”

বাস্তব জীবনের এই চরম ‘ডন’ পরিস্থিতি এবং কোটি কোটি টাকার আইনি নোটিশের মাঝে সদ্গুরুর এই ‘জীবন দর্শনের’ পাঠ রণবীরের মনে কতটা শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, এখন সেটাই দেখার।