বলিউডে অগুনতি হিট গান তাঁর। সেই আমাল মালিক সম্প্রতি নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিকের লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সঙ্গীত পরিবারের সন্তান হওয়া তাঁর পথ সহজ তো করেইনি, বরং বহু ক্ষেত্রেই তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে আমাল অকপটে জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে খুব অল্প বয়স থেকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন আমাল। শুরুতে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রানার হিসাবে ছোটখাটো কাজ করতেন। পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য হার্ড ডিস্ক বহন করা থেকে শুরু করে যে কোনও কাজই নির্দ্বিধায় করতেন তিনি। বলিউডের প্রতিযোগিতাপূর্ণ সঙ্গীত দুনিয়ায় টিকে থাকতে তাঁকে প্রতিদিনই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।

আমালের কথায়, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর পদবি জানার পরই কাজের দরজা বন্ধ হয়ে যেত। ‘মালিক’ নাম শুনে বহু প্রযোজক বমনে করতেন, তিনি নাকি তাঁদের গান ‘বিক্রি করে দিতে পারেন’ বা অন্যায়ভাবে সুবিধা পেয়ে যাবেন। এই মানসিকতার শিকার হয়েছেন তাঁর ভাই, গায়ক আরমান মালিকও। আমাল জোর দিয়ে বলেন, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে তাঁদের পারিবারিক পরিচয় কোনও শর্টকাট তৈরি করে দেয়নি। প্রতিটি সুযোগ তাঁকে লড়াই করে, পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়েছে।

গত বছর পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন আমাল মালিক। অবসাদে ভোগার কথাও জানিয়েছিলেন সুরকার। আমাল সরাসরি আঙুল তুলেছেন তাঁর বাবা-মায়ের দিকে। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার অভিভাবকদের কার্যকলাপের কারণেই আমরা দুই ভাই পরস্পরের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছি।’ বাবা-মা নাকি তাঁকে দিনের পর দিন অপদস্থ করার চেষ্টা করে গিয়েছেন। 

বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাল একের পর এক ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার সুযোগ পান। ‘এক পহেলি লীলা’, ‘বাগি’, ‘কাপুর অ্যান্ড সন্স’, ‘এয়ারলিফ্ট’ এবং ‘বদ্রীনাথ কি দুলহানিয়া’-র মতো ছবিতে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর যাত্রাপথ প্রমাণ করে, বলিউডে সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা বা পারিবারিক ঐতিহ্য যথেষ্ট নয়, মানসিক দৃঢ়তাই আসল চাবিকাঠি।

‘বিগ বস ১৯’এ আমালের উপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। ঘরের ভিতরে তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা হলেও, দর্শকদের সমর্থনে তিনি ফিনালে পর্যন্ত পৌঁছন। পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজের প্রতিভা দিয়েই যে তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন, তা স্পষ্ট। আমালের গল্প মনে করিয়ে দেয়, ধারাবাহিক পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে পক্ষপাতকেও হার মানানো সম্ভব।