‘জানে তু… ইয়া জানে না’ ছবি খ্যাত অভিনেতা ইমরান খান দীর্ঘ ১১ বছর পর আবার ফিরেছেন বড়পর্দায়। ২০১৫-তে ‘কাট্টি বাট্টি’-র পর, বীর দাসের পরিচালনায় ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ ছবির মাধ্যমে তাঁর কামব্যাক হয়েছে। আর কামব্যাকের পরপরেই এবার বলিউডের অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায় এবার হাত দিলেন ইমরান।
সদ্য দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ইমরান সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বলি অভিনেতাদের আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক এবং ছবির প্রতি তাঁদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার অভাব নিয়ে! আমিরের ভাগ্নের স্পষ্ট বক্তব্য, অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকারা বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নিতেই পারেন, সেটা বোঝা যায়। কিন্তু এখন এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে ব্যাপারটা, যেখানে অনেকেই এই গোটা বিষয়টা কাজে লাগিয়ে স্রেফ নিজের স্বার্থ দেখছেন।এই প্রসঙ্গে নিজের মামা আমির খানের উদাহরণ টেনে ইমরান বলেন, নৈতিক দিক থেকে আমির বরাবরই আলাদা। তাঁর কথায়, আমির খান কখনওই নিজের প্রকৃত বাজারমূল্যের কাছাকাছি টাকার অঙ্ক নেন না।
এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেছিলেন, আজকের দিনে অভিনেতা নির্বাচন অনেকটাই ছবির বাজেটের উপর নির্ভর করে। এই ব্যবস্থা এখনও আছে কি না এবং তিনি সেটাকে কীভাবে দেখেন এই প্রশ্নে ইমরান বলেন, “এর দু’টো দিক আছে। একদিকে, এটা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত যে যাঁর স্টার ভ্যালু বেশি, তিনি বেশি দর্শক টানবেন, ছবির প্রতি বেশি নজর আনবেন। সেই অভিনেতার পিছনে বেশি টাকা খরচ করাই স্বাভাবিক। বড় মাপের অ্যাকশন ছবি বানাতে গেলে বড় বাজেট লাগে, আর সেখানে এমন একজন দরকার যিনি দর্শক টানতে পারেন। এটা পুরোপুরি সঠিক ব্যাপার।”
তবে এর পরেই ইমরানের কণ্ঠে ধরা পড়ে কড়া সমালোচনা। তাঁর সংযোজন, “কিন্তু আমার বিশ্বাস, এখন অনেক তারকাই এই সিস্টেমটাকে শোষণ করছেন। আমার কাকা আমির আমাকে যা শিখিয়েছেন, আর আমি আমার আগের প্রজন্ম, এমনকি তার আগের প্রজন্মগুলোর মধ্যেও যা দেখেছি, তা হল ছবির প্রতি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও মালিকানার অনুভূতি। আমি বলছি না যে তাঁরা পকেট থেকে টাকা ঢালতেন, কিন্তু ছবিটাকে নিজের বলে ভাবতেন।”
ইমরান উদাহরণ দিয়ে বোঝান, কোনও ছবির আসল প্রোডাকশন খরচ যদি ৩০ কোটি টাকা হয়, আর অভিনেতা যদি নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে ৪০ কোটি নেন, লাভের মুখ দেখাই কঠিন হয়ে যায়।
ইমরানের কথায়,“তাহলে একটি ছবির লাভের রাস্তা কোথায়? আর সেটা কি আমার ভাবা উচিত নয়? অবশ্যই ভাবা উচিত। কারণ এটা আমার ছবি। যদি আমার মনে হয় ছবিটা ভালো হতে পারে, তাহলে প্রথমে কম টাকা নাও। ঝুঁকি নাও। ছবির সাফল্যের উপর বাজি ধরো। যদি কেউ এটা করতে পারে, সেটা তারকাই! যদি তুমি ৪০ কোটির পারিশ্রমিক নিতে পারো।”
এই প্রসঙ্গে আমির খানের কাজের ধরণ নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেন ইমরান। তাঁর দাবি, “বরাবরই এটাই আমিরের পথ। তিনি কখনওই প্রথমে নিজের পুরো মূল্য নেন না। তিনি সবসময় ছবির লাভের মুখ দেখার শেষে নেন। তিনি কখনও বলেন না, 'আমাকে ৬০ কোটি দাও, ৭৫ কোটি দাও।’ এটা তো বোকামি। এতে তো নিজের ছবিকেই পঙ্গু করা হয়। ছবিকে শোষণ করে ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে ধনী করা হয়। এর মানে হল, ছবির উপর তোমার আসলে বিশ্বাসই নেই।”
ইমরান আরও বলেন, আজ অনেক অভিনেতাই আগে নিজের চেক সুরক্ষিত করেন, ছবির মান বা ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে তাঁদের বিশেষ মাথাব্যথা নেই। “এই মনোভাবটা আমার বিলকুল পছন্দ নয়। যাঁর কাঁধে ভর করে একটা ছবি তৈরি হচ্ছে, যাঁকে কেন্দ্র করেই ফান্ডিং আসছে, তাঁরই যদি ছবির মান বা সাফল্যের উপর বাজি ধরার মতো আর্থিক নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আর কে ধরবে?” সাফ প্রশ্ন ইমরানের।
বলিউডে তারকাদের পারিশ্রমিক বনাম ছবির ভবিষ্যৎ, এই বিতর্কে ইমরানের এই বক্তব্য যে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
