দিনে দুপুরে অদ্ভুত কাণ্ড! স্কন্ধকাটার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অক্ষয় কুমার! ব্যাপার কী?
এদিন অক্ষয় কুমার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি কালো টিশার্ট, হুডি এবং কালো প্যান্ট পরে হাঁটছেন। তাঁর পাশে গেরুয়া বসন পরে হাঁটছে এক স্কন্ধকাটা ভূত। অর্থাৎ যার মুণ্ডু নেই। অথচ কী স্বাভাবিক ভাবেই সেই ভূতের কাঁধে হাত রেখে হাঁটছেন অক্ষয় কুমার। ভয়ডর পাওয়া তো ছাড়ুন, এই স্কন্ধকাটাকেই উল্টে অভিনেতা ভূতের কথা জিজ্ঞেস করছেন।
অক্ষয় কুমার এই স্কন্ধকাটা ভূতকে জিজ্ঞেস করছেন যে ভূত, টুথ বলে কি আদৌ কিছু হয়? জবাবে সেই ভূত আবার জানায় যে সে জানে না। একই সঙ্গে বলে সে যবে থেকে জন্মেছে, তার মা তাকে বলেছে যে তার বাবা ভূত, আর তার বাবার কথা অনুযায়ী তার মা পেত্নী। কিন্তু সে এসব কিছুই দেখেনি। ফলে স্কন্ধকাটা ভূতের মতে, ভূতের বিষয়টা কেবল গুজব, আর কিছুই নয়। তাই সে অক্ষয়কে এসব বিশ্বাস না করার কথা বলে।
ভাবছেন এসব কী? আসলে আর কয়েক মাস পরেই আসছে অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি, 'ভূত বাংলা'। তারই প্রচারের জন্য এই ভিডিও পোস্ট করেছেন। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখেন, 'কী একটা প্রশ্ন করলাম, ভাইয়ের পা কথা বলতে শুরু করে দিল।' একই সঙ্গে অক্ষয় কুমার জানান তাঁর আগামী ছবি 'ভূত বাংলা' ১০ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে বড়পর্দায়।
https://www.instagram.com/reels/DVSlOjwE2xj/
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রকাশ পেল ছবির প্রথম গান ‘রাম জি আকে ভলা করেনগে’— যেখানে অক্ষয় কুমারকে দেখা গেল তাঁর পুরনো চেনা কমিক এনার্জিতে। পাগলামি, ভুল ভুলাইয়া ছবির নস্ট্যালজিয়া এই মিলিয়ে গানটি যেন ভূতুড়ে দুনিয়ার মজাদার জগতের এক ঝলক। তবে এখানেই ভুরু কুঁচকেছে শ্রোতা-দর্শকরা। আর এই গানের অন্তরাতেই শোনা গেল “আহা ভূত, বাহা ভূত, কিবা ভূত, কিম্ভূত! বাবা ভূত, ছানা ভূত, খোঁড়া ভূত, কানা ভূত কাঁচা ভূত, পাকা ভূত, সোজা ভূত, বাঁকা ভূত...” এর কথাগুলোই। বাংলা গানটির সেই অতিপরিচিত সুরে। গানটির সুর করেছেন প্রীতম, গীতিকার কুমার। কণ্ঠ দিয়েছেন অর্মান মালিক ও আরভান । পাশাপাশি মেলো ডি-র র্যাাপ গানটিকে দিয়েছে আধুনিক ছোঁয়া। গান প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করেন প্রীতম। তিনি জানান, এই গানটি কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি। এই গান যে তাঁর শৈশবের স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে আর সেই নস্ট্যালজিয়াকে সুন্দরভাবে গেঁথে দিয়েছেন গীতিকার কুমার, সেকথাও জানিয়েছেন প্রীতম। এখানেই শেষ নয়। প্রীতম এই গানের আরও একটি ভার্সন তৈরি করতে ইচ্ছুক। এবং সেই সংস্করণটি নীরজ শ্রীধরকে নিয়েই করতে চান।
ঠিক এখানেই উঠেছে একটি প্রশ্ন। ‘গুপী গাইন ও বাঘা বাইন’-এর প্রযোজক ছিলেন নেপাল দত্ত এবং পূর্ণিমা দত্ত। ছবির স্বত্ব রয়েছে তাঁদের নামেই। তা তাঁদের পরিবার থেকে কি এই বিষয়ে কোনওরকম অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? পুরো ঘটনায় নেপাল দত্ত এবং পূর্ণিমা দত্তর সন্তান অরিজিৎ দত্ত বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ। প্রিয়া সিনেমাহলের কর্ণধার অরিজিৎ স্পষ্ট কথায় আজকাল ডট ইন-কে বললেন, “একদম নেওয়া হয়নি। অনুমতি তো দূর, কোনও আলোচনাও করা হয়নি আমাদের সঙ্গে। পুরো বিষয়টায় আমি যারপরনাই অবাক! এসব হচ্ছেটা কী! আর, সত্যজিৎ রায়ের তৈরি করা কাজ নিয়ে ছেলেখেলা করার প্রয়োজনটাই বা কী বুঝতে পারছি না। কী প্রয়োজন আমাদের যিনি মায়েস্ত্রো তাঁর এরকম বিশ্ববন্দিত কাজ নিয়ে এসব করার।”
'ভূত বাংলা' ছবির হাত ধরে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের জুটি বেঁধেছেন অক্ষয়কুমার-প্রিয়দর্শন। ২০০০ সালে 'হেরা ফেরি' ছবির পর ফের একবার একসঙ্গে কাজ করলেন দুই তারকা।
