মিল্টন সেন, হুগলি: গাড়ি বা হুড খোলা জিপ নয়। বরং ঝড়-জল-রোদ-পায়ে হাঁটা। টানা ২০ দিন ধরে প্রচার চলছে পায়ে হেঁটে। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে ইতিমধ্যেই পায়ে হেঁটে ৪৮০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ঘুরে ফেলেছেন। এখনও ১০ টি বুথে পৌঁছতে পারেননি। সেই দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সেটাও সম্পূর্ণ করে ফেলবেন, জানালেন সিঙ্গুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মন্ত্রী বেচারাম মান্না। 

সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। বিধানসভা কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২৯৭ টি। প্রত্যেক বুথের সমস্ত বাড়িতে পৌঁছনোই তাঁর লক্ষ্য। শুধু পৌঁছনো নয় দলমত নির্বিশেষে সেই বুথের সকল বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলা, সৌজন্য বিনিময় করা বেচারাম বাবুর মূল লক্ষ্য। তাই নাম ঘোষণার পর গত ২৪ মার্চ থেকে প্রচার শুরু করেছেন। টানা চলছে। মাঝে একদিন শুধু মনোনয়নের জন্য প্রচার করতে পারেননি। 

সোমবার প্রচারে বেরিয়ে বেচা বাবু বলেছেন, সিঙ্গুর কে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। তাই সেখানকার অলিগলি তস্যগলি সবই তাঁর মুখস্ত। আর তিনি মনে করেন, তাঁর ওই কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে চেপে সম্ভব নয়। আর পায়ে হেঁটে জনসংযোগ ভালো হয়। তাই প্রথম দিন থেকেই তিনি হাঁটছেন। 

জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে ১০ টা। কিছু খেয়ে দলীয় বৈঠক বা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। আবার ৩ টে নাগাদ হাঁটা শুরু করছেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত। প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। সুবিধে অসুবিধের খোঁজ নিচ্ছেন। প্রকল্প পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইছেন। কেউ বঞ্চিত থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। 

এদিন বেচারাম বাবু আরও বলেছেন, আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বাড়ি বাড়ি প্রচার শেষ করবেন। তার পর মিছিল, মিটিং, জনসভা ইত্যাদিতে জোর দেবেন। প্রধানমন্ত্রী আসুক বা যেই আসুক সিঙ্গুর বলতে গেলে বিরোধী শূন্য। তাঁর জয় নিশ্চিত। এই নির্বাচনে তাঁর জয়ের ব্যবধান অনেকটাই বাড়বে। "বাংলায় চতুর্থবার আবার মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্ত্বে সরকার গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস", বলেন তিনি।  

ছবি পার্থ রাহা।