আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের মুখে ফের বড় সাফল্য। রবিবার বিকেলে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় এসটিকেকে রোডে নাকা তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হল প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার অলঙ্কার। এই ঘটনায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ গুপ্তিপাড়ার বাধাগাছি মীরডাঙার কাছে নাকা তল্লাশি চলছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্তেশ চৌধুরী। সেই সময় একটি চারচাকা গাড়িকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকানো হয়। গাড়িতে চালক ছাড়াও ছিলেন এক যুবক।

তল্লাশি চালাতেই যুবকের কাছে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসে নজরকাড়া নকশার সোনার নেকলেস ও পেনডেন্ট। পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া সত্তর গ্রামের ওপর সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। স্থানীয় একটি গয়নার দোকান থেকে ওজন করার যন্ত্র আনিয়ে গয়নাগুলির মাপ নেওয়া হয়।
আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই দানা বাঁধতে শুরু করে রহস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক একেক সময় একেক রকম বয়ান দিতে থাকেন। তিনি দাবি করেন, গয়নাগুলি তাঁর বাড়িতেই ছিল এবং তিনি বারুইপুর থেকে নবদ্বীপ যাচ্ছিলেন। পরে জানা গিয়েছে, গয়নাগুলি মূলত বেঙ্গালুরু থেকে বারুইপুর হয়ে নবদ্বীপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে গয়নার শৈলী। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, ওই গয়নার নকশা বাংলার চিরাচরিত গয়নার মতো নয়, যা দক্ষিণ ভারতের ধাঁচের। সবথেকে বড় বিষয় হলো, লক্ষ লক্ষ টাকার এই গয়নার সপক্ষে কোনও বৈধ বিল বা ক্যাশমেমো দেখাতে পারেননি ওই যুবক।

ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্তেশ চৌধুরী জানান, "নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনে বেআইনি নগদ টাকা, অস্ত্র বা সোনা পাচার রুখতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। সঠিক নথিপত্র দেখাতে না পারায় গয়নাগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এখন আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
ভোটের আবহে এই সোনা কোথায়, কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।















