আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে একটি ভিডিও। ভাইরাল এই ভিডিওতে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতায় বলতে দেখা গিয়েছে এরাজ্যে মমতা ব্যানার্জির সরকার উৎখাতের বিষয়ে কীভাবে বিজেপির সঙ্গে তাঁর 'গাঁটছড়া' বাঁধা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত 'বাবরি' মসজিদ তৈরির পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য কী। ভিডিওতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কীভাবে তাঁকে সহযোগিতা করছেন সেই বিষয়টিও হুমায়ুন জানিয়েছেন। ভিডিওটি প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে হৈচৈ পড়ে যায়। তৃণমূল কগ্রেসের তরফ থেকে কড়া সমালোচনা করা হয়। এমনকী তাঁকে মুসলিম সমাজ থেকে বের করে দেওয়ার পর্যন্ত আবেদন করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। 

এই ঘটনার পরেই হুমায়ুন কবীর দাবি করেন ভিডিওটি জাল এবং 'এআই' প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এই ভিডিও প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপিও দাবি করে এটি একটি তৈরি করা জাল ভিডিও। রাজ্যে দলের প্রধান মুখপাত্র আইনজীবী দেবজিৎ সরকার এদিন বলেন, "এটা একটা 'ডক্টরড' বা পুরোপুরি সাজানো ভিডিও। তৃণমূলের তৈরি করা এই সমস্ত নাটক এরাজ্যে আর চলবে না।" ভিডিওতে বিজেপির তরফে হুমায়ুনকে আর্থিক সহযোগিতার অভিযোগে দেবজিৎ বলেন, "হুমায়ুন যে টাকা পেয়েছেন সেটা তিনি তাঁর অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল কগ্রেস কেন আদালতে এই বিষয়ে তদন্ত চাইছে না।" 

ভিডিওতে বিজেপির নাম জড়িয়ে যাওয়া এবং সেই প্রসঙ্গে বিজেপি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না তা জানতে চাওয়া হলে দেবজিৎ বলেন, "এই ধরনের জাল ভিডিও নিয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।" সেই পদক্ষেপ হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "পদক্ষেপ হুমায়ুন না অন্য কারুর বিরুদ্ধে সেটা আমরা ঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নেব।" 

অন্যদিকে এই বিষয়ে বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "এ যেন শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল! কোনওরকম ফোরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই বিজেপি কীভাবে বলে এটা 'ডক্টরড ভিডিও'? ওঁরা কেন আগ বাড়িয়ে এই কথা বলছেন? তদন্ত তো চাওয়ার কথা হুমায়ুনের। তৃণমূলের তো নয়!"