আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু তার আগে বুধবার একদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়সড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের দলত্যাগে ৩৬ আসন বিশিষ্ট ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে বুধবার থেকেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। 

বুধবার লালগোলা এমএন অকাডেমির কাছে লাইব্রেরি মাঠে একটি কর্মিসভায় লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির এক নির্দল সদস্য-সহ মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের এক সাধারণ সম্পাদক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য  তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। 

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাম এবং কংগ্রেস দল জোট করে মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর-২ এবং লালগোলা, এই দু'টি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছিল। ৩৬ আসন বিশিষ্ট লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ১২, কংগ্রেস ১৩, বামফ্রন্ট ৯, বিজেপি ১ এবং নির্দল প্রার্থী একটি আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। 

রবিবার একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাম-কংগ্রেস জোট ছেড়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লক্ষ্মী সরকার-সহ মোট ৬ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। এর ফলে লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী জোটের সদস্য সংখ্যা সমান সমান হয়ে গিয়েছিল। 

বুধবার লালগোলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি নির্বাচনী কর্মিসভায় নির্দল প্রতীকে জয়ী পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য  মহম্মদ সাইফুদ্দিন, জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক  হারুন আল রাশিদ-সহ আরও প্রচুর কংগ্রেস কর্মী এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেন। 

এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালগোলা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডাক্তার আব্দুল আজিজ, তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান, তৃণমূল কংগ্রেসের লালগোলা ব্লক কোর কমিটির আহ্বায়ক রুমা ব্যানার্জি, রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান-সহ আরও  অনেকে। 

রুমা ব্যানার্জি বলেন, "পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি-সহ মোট ৬ জন সদস্য রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করায় লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে ১৮তে দাঁড়িয়েছিল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল প্রতীকে জয়ী সদস্য মহম্মদ সাইফুদ্দিন তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ায় আজ লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল। তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ জন।"
 
প্রসঙ্গত, মহম্মদ সাইফুদ্দিন লালগোলায় একজন পরিচিত তৃণমূল নেতা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি তৃণমূল দলের টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। তৃণমূলের প্রাক্তন এই নেতার 'ঘর ওয়াপসি'র ফলে আজ লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেল। 

অন্যদিকে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হারুন আল রাশিদ লালগোলা ব্লকে কংগ্রেসের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। হারুন আল রাশিদ এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের শক্তি বাড়ল বলেই তৃণমূল নেতৃত্বের মত। 

তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, "মহম্মদ সাইফুদ্দিন আমাদের ঘরেরই ছেলে। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে কয়েকদিনের জন্য তিনি আমাদের থেকে দূরে ছিলেন। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি  আমাদের দলে ফিরে আসায় লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতে আজ আমরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলাম।"
 
পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারের জন্য দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনী প্রচারে প্রত্যেক মানুষের দরজায় পৌঁছে যেতে হবে এবং যেভাবে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং মমতা ব্যানার্জি উন্নয়নের রাজনীতি করছেন তা সকলকে বুঝিয়ে বলতে হবে।" এর পাশাপাশি বুথ সভাপতি এবং অঞ্চল সভাপতিদের তিনি দ্রুত নিজেদের এলাকায় বৈঠক করে নির্বাচনী প্রচার ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। 

খলিলুর রহমান আরও বলেন, "বিজেপি যে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে তা রাজ্যের  সমস্ত মানুষ বুঝে গিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে দেবেন না। ইতিমধ্যেই আমরা সুপ্রিম কোর্টে এর জন্য মামলা লড়ছি। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের দু'লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া মেটাচ্ছে না। রাজ্যের বকেয়া টাকা না মেটানোয় অনেক কাজ করা আমাদের পক্ষে করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।"
বুধবার তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার আব্দুল আজিজ লালগোলার বিভিন্ন গ্রাম এবং নাশিপুরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নির্বাচনী প্রচার সারেন।