আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে 'বিকল্প ইশতেহার' প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এই ইশতেহারে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকেই মূল হাতিয়ার করেছে তারা। রাজ্যের বর্তমান অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘বাংলা বাঁচাতে’ বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির এই ইশতেহারে ২২টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বামফ্রন্টের এই ইশতেহারে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বেকারদের কর্মসংস্থানে। বামেদের প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি শূন্যপদ স্বচ্ছতার সঙ্গে পূরণ করা হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি উপার্জনহীন পরিবারে অন্তত একজনকে কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি, পিএসসি বা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ এবং প্রতি বছর নিয়মিত পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। যুবশক্তির জন্য ‘নেতাজী সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প’ চালুর কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষণ চলাকালীন মাসিক ২০০০ টাকা ভাতা পাবেন তরুণরা।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন বাম নেতৃত্ব। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় এলে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা হবে। যারা আয়কর দেন না, তাদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্ধেক দাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০০০ টাকা করার এবং প্রতিটি মহকুমায় ‘জেরিয়াট্রিক কেয়ার হোম’ বা প্রবীণ আবাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহার প্রকাশের সময় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু আরএসএস এবং শাসক দলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভাষা, ধর্ম ও বর্ণের নামে যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে, তার একমাত্র বিকল্প বামপন্থীরাই। নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ইশতেহারে প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘অভয়া বাহিনী’ গঠন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক সমবায় গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এদিন ইশতেহার প্রকাশের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিমান বসু। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু মুসলিম ভোটার নয়, অনেক হিন্দু ভোটারের নামও ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। মোথাবাড়ি ও কালিয়াচকের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যা করছে তা অন্যায়।

রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিমান বসু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার রাজ্যের দেনা ৫ লক্ষ কোটি টাকার উপরে নিয়ে গিয়েছে, অথচ বামেদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের বোঝা কেন বাড়ল, তা নিয়ে শাসক দলের কাছে জবাব চেয়েছেন বামফ্রন্ট সভাপতি। অন্ধকার সরিয়ে বাংলায় ‘আলো ফেরানোর লড়াই’ শুরুর ডাক দিয়েই বামেদের এই নির্বাচনী ইশতেহার রাজ্যের মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।