আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৫ বছর পর রাজ্য পালাবদল। শনিবার বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথগ্রহণ করবেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য আয়োজন চলছিল জোরকদমে। তার আগেই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনায়। ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ। 

 

সূত্রের খবর, বুধবার রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনের ঘটনার খবর নিতে সরাসরি তাঁকে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। চন্দ্রনাথকে কীভাবে খুন করা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে, সমস্ত বিষয়ে জানতেই ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

 

প্রসঙ্গত, মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।

 

এদিন মধ্য রাতে শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি ভগ্ন হৃদয় নিয়ে এসেছি এখানে। আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কিছু মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। ওঁ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঁ ছিল না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব না। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করছি, রাজ্য পুলিশের ডিজি এসেছিলেন। আমাকে এবং সুকান্ত মজুমদারকে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করবেন। গত ২-৩ দিন ধরে একটি ফলস নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন।" 

 

এরপরই শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি রাজ্যজুড়ে বিজেপির সমস্ত কর্মী, সমর্থকদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দু'দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা আমরা করব। সবাইকে অনুরোধ করব, শান্তি বজায় রাখুন এবং এই পরিবারগুলোর পাশে থাকুন। আমরা থাকতে থাকতেই খড়দহতে বোমাতে একজন আহত, বরানগরে একজন আহত, বসিরহাটে একজন গুলিবিদ্ধ, এই খবরগুলো পেলাম। যাতে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়, তা দেখতে হবে।" 

 

তিনি আরও বলেন, "দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেব আমরা। সারাজীবন ওঁর পরিবারের পাশে থাকব। আহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।"