আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে বাইক চলাচলে ব্যাপক বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। যার জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন আমজনতা।

এবার এই নির্দেশিকায় কমিশনকে ব্যাপক আক্রমণ করল হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক চলাচলে বিধিনিষেধের এই নিয়ম কার্যত মেনে নেওয়া যায় না।

এই মামলার শুনানিতে কমিশনকে কার্যত ভর্ৎসনা করে আদালত। জানা গিয়েছে, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে কী কারণে বাইক বন্ধ করে দেওয়া হল তা শুক্রবারের মধ্যে হলফনামা দিয়ে আদালতে জানাতে হবে কমিশনকে।

কমিশনের আইনজীবীকে এদিন  কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, 'আপনাদের কর্তৃপক্ষ কেনও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছে না? দু’দিন আগে থেকে এমার্জেন্সি ঘোষণা করে ভোট করাক। তা নাহলে মানতে হবে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ। এইভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না।'

কমিশনের পর্যবেক্ষণ, 'শুধু বাইক কেন, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোম, অস্ত্র নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে।' 

বিচারপতি বলেন, “গত পাঁচ বছরে কত বাইকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে তা আদালতকে জানান। কত ক্ষেত্রে বাইক বাহিনীর গোলমাল পাকিয়েছে সেটাও জানান। আপনাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।'

বিচারপতি রাও আরও বলেন, 'আপনারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। যেহেতু ভোটের সময় আপনাদের ক্ষমতা বা এক্তিয়ার রয়েছে, তার অপব্যবহার করছেন।” বিচারপতি আরও বলেন, “ইলেকশন কমিশনের ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না। অন্য রাজ্যগুলিতে কোথায় এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে দেখান।'

বাইক ব্যবহার করা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বাংলায় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত করতে বিঘ্ন রোধে রাজ্যজুড়ে বাইক ব্যবহারে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

ভোটের দু’দিন আগে থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে থেকে কোনও মোটরবাইক ব়্যালি করা যাবে না।

জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেলে পিলিয়ন রাইডার (যারা বাইকের পিছনে বসেন) নেওয়া যাবে না। তবে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, যেমন স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আসা-যাওয়া, এই নিয়মের ব্যতিক্রম থাকবে।

ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে পিলিয়ন রাইডার হিসেবে ভোট দিতে যাওয়া বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে বাইকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে এই বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।