আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডিজিটাল যুগে এখন উইল তৈরিও অনেক সহজ। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উইলের খসড়া তৈরি করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, অনলাইনে তৈরি উইল কি ভারতীয় আইনে বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে সই করার আগে কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি?


ভারতীয় আইন অনুযায়ী, একটি উইল সম্পূর্ণ বৈধ, যদি সেটি একজন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি নিজের স্বেচ্ছায় তৈরি করেন, লিখিত আকারে থাকে এবং টেস্টেটর দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তাতে স্বাক্ষর করেন। সেই দুই সাক্ষীকেও ওই স্বাক্ষরের সত্যতা নিশ্চিত করে সই করতে হয়। উইলটি আইনজীবীর মাধ্যমে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বা নিজে হাতে তৈরি—কোন উপায়ে লেখা হয়েছে, তা আইনগত বৈধতার ক্ষেত্রে কোনও পার্থক্য তৈরি করে না।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র একটি অনলাইন টেমপ্লেট ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়। একটি উইল অত্যন্ত ব্যক্তিগত নথি এবং সেটিতে ব্যক্তির পারিবারিক, আর্থিক ও সম্পত্তিগত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন থাকা জরুরি। সাধারণ বা একরকমের টেমপ্লেট সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে।


প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে, উইলটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সঠিক আইনের আওতায় তৈরি হয়েছে কি না। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আলাদা নিয়ম রয়েছে। মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইলের মাধ্যমে কাউকে দেওয়া যায় না।


একইভাবে, গোয়ার বাসিন্দা বা গোয়ান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তে গোয়ার বিশেষ উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হতে পারে। তাই উইল তৈরির আগে কোন আইন প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এছাড়াও, উইলে উল্লেখ করা সম্পত্তি বা সম্পদের প্রকৃতি যাচাই করা উচিত। যদি কোনও সম্পত্তি পূর্বপুরুষদের হয়, তাহলে ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের অংশটুকুই উইলের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিতে পারবেন। পুরো সম্পত্তি নয়। আবার কোনও প্রাইভেট বা ক্লোজলি-হেল্ড কোম্পানির শেয়ার থাকলে, সেই কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর করা সম্ভব কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।


উইলে যেন কোনও দ্বন্দ্ব বা অসঙ্গতি না থাকে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, কোনও নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার একজন উত্তরাধিকারীকে দিয়ে, সেই শেয়ার থাকা ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট অন্য কাউকে দিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। অনেক অনলাইন উইল তৈরির প্ল্যাটফর্ম এই ধরনের অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে পারে না।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি কোনও উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে তার কারণ উইলে উল্লেখ করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে আদালতে উইল চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে।


যদি পরিবারের কোনও সদস্য বিদেশে থাকেন বা বিদেশের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর আইনও বিবেচনা করা জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার ফলে অতিরিক্ত করের বোঝা তৈরি হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে তৈরি উইল আইনি দিক থেকে বৈধ হলেও, সেটি সই করার আগে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা এস্টেট প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পর্যালোচনা করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এতে ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ, আইনি জটিলতা এবং সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

&t=1s