আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক জন্য জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার ঘোষণা করেছে। অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সুদের হার ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং তা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই ত্রৈমাসিকে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার রাখা হয়েছে ৭.১%। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই হার আগের ত্রৈমাসিকের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে—অর্থাৎ কোনও বৃদ্ধি করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত বছরে চারবার—এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর এবং জানুয়ারি মাসে—এই সুদের হার পর্যালোচনা করে থাকে। কখনও হার বাড়ানো বা কমানো হয়, আবার অনেক সময় তা অপরিবর্তিতও রাখা হয়।
এই সুদের হার শুধু জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডেও প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে—কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্টেট রেলওয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড, ডিফেন্স সার্ভিসেসের জিপিএফ, ইন্ডিয়ান অর্ডন্যান্স ডিপার্টমেন্ট প্রভিডেন্ট ফান্ড, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্মীদের ফান্ড, নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড কর্মীদের ফান্ড, ডিফেন্স সার্ভিসেস অফিসারদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং আর্মড ফোর্সেস পার্সোনেল প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ মোট ১০টি ফান্ড এই হারের আওতায় আসবে।
জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড মূলত সরকারি কর্মীদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক সঞ্চয় প্রকল্প। এই স্কিমে কর্মীরা তাঁদের বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত জমা করেন। চাকরি শেষে বা অবসরের সময় সেই জমা অর্থের সঙ্গে সুদসহ সম্পূর্ণ টাকাটি তাঁরা পান। ফলে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে।
এদিকে, কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি অন্যান্য ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারও অপরিবর্তিত রেখেছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই ত্রৈমাসিকে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদের হার ৭.১% এবং পোস্ট অফিস সেভিংস ডিপোজিট স্কিমের সুদ ৪% রাখা হয়েছে। কিষান বিকাশ পত্র সুদের হার ৭.৫%, যেখানে মেয়াদপূর্তি হবে ১১৫ মাসে। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট সুদের হার রাখা হয়েছে ৭.৭%।
&t=546s
অন্যদিকে, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন চলতি অর্থবর্ষের জন্য ইপিএফে সুদের হার ৮.২৫% অপরিবর্তিত রেখেছে। সব মিলিয়ে, জিপিএফ সহ বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও উচ্চ রিটার্নের প্রত্যাশায় থাকা অনেকের কাছে এটি কিছুটা হতাশার কারণ হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি আগামীদিনে খুব বেশি পরিবর্তন করা হবে না বলেই মনে করছে দেশের অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন এই হার স্থির রাখাই এখন প্রধান কাজ। তাহলেই সেখান থেকে অর্থনীতির চাকা সঠিক দিকে দিশা পাবে।















