আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেতনভোগী কর্মীরা সাধারণত আয়কর রিটার্ন (আইটিআর) দাখিল করার আগে ফর্ম ১৬-এর জন্য অপেক্ষা করেন। তবে আপনি যদি এখনও সেটা না পেয়ে থাকেন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অন্যান্য নথিপত্র ব্যবহার করেও আপনি আপনার আইটিআর দাখিল করতে পারেন।
ফর্ম ১৬ হল নিয়োগকর্তার দেওয়া একটি সার্টিফিকেট, যাতে আপনার বেতন, উৎসস্থলে কর কর্তন (টিডিএস) এবং কর সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য উল্লেখ থাকে। যদিও এটি আইটিআর দাখিলের প্রক্রিয়া সহজ করে তোলে, তবুও রিটার্ন দাখিলের জন্য এটি কোনও বাধ্যতামূলক নথি নয়।
আপনার কাছে ফর্ম ১৬ না থাকলেও, অন্যান্য নথিপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আপনি আইটিআর দাখিল করতে পারেন।
আপনার যেসব নথিপত্র প্রয়োজন হবে:
বেতনের স্লিপ (স্যালারি স্লিপ): এগুলোতে আপনার মাসিক বেতন, বিভিন্ন কর্তন এবং নিয়োগকর্তা কর্তৃক কেটে নেওয়া করের বিবরণ থাকে।
অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট বা বার্ষিক তথ্য বিবরণী (এআইএস): এতে আপনার বেতন, টিডিএস, সুদের আয়, লভ্যাংশ, সিকিউরিটিজ লেনদেন এবং কর বিভাগের কাছে রিপোর্ট করা অন্যান্য আর্থিক তথ্যের বিবরণ থাকে।
ফর্ম ২৬এএস: এই বিবরণীতে আপনার আয় থেকে কেটে নেওয়া টিডিএস, উৎসস্থলে সংগৃহীত কর, অগ্রিম কর এবং অর্থবর্ষে পরিশোধ করা স্ব-মূল্যায়ন করের তথ্য থাকে। নিয়োগকর্তা কর্তৃক কেটে নেওয়া কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে এটি সাহায্য করে।
ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট: সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে অর্জিত সুদ যাচাই করতে এগুলো সাহায্য করে।
সুদ সংক্রান্ত সনদ: ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে সুদ আয় করে থাকলে, ব্যাঙ্ক থেকে সুদ সংক্রান্ত সনদ সংগ্রহ করুন।
বিনিয়োগ ও কর ছাড়ের প্রমাণপত্র: কর সাশ্রয়কারী বিনিয়োগ ও ব্যয়ের নথিপত্র (যেমন—জীবন বিমার প্রিমিয়াম, পিপিএফ, ইএলএসএস, গৃহঋণের সুদের সনদ, স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম এবং টিউশন ফি সঙ্গে রাখুন, যদি আপনি পুরনো কর ব্যবস্থায় কর ছাড়ের দাবি করেন।
মূলধনী লাভ বা ক্যাপিটাল গেইনস স্টেটমেন্ট: অর্থবর্ষের মধ্যে শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা সম্পত্তি কেনা বা বিক্রি করে থাকলে, আপনার ব্রোকার বা মিউচুয়াল ফান্ড প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যাপিটাল গেইনস স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করুন।
ফর্ম ১৬ ছাড়া কীভাবে আইটিআর দাখিল করবেন?
প্রথমে, অর্থবর্ষে আপনার অর্জিত সমস্ত আয়ের হিসাব করুন—যার মধ্যে বেতন, পেনশন, বাড়ি ভাড়া থেকে আয়, শেয়ার বা সম্পত্তি বিক্রি থেকে লাভ এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এরপর, ফর্ম ২৬এএস ডাউনলোড করুন এবং দেখুন আপনার বেতন বা অন্যান্য আয় থেকে ইতিমধ্যে কত পরিমাণ টিডিএস কেটে নেওয়া হয়েছে। আপনার সমস্ত আয়ের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে 'অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট'-টি যাচাই করে নিন। যদি কোনও তথ্য বাদ পড়ে থাকে বা ভুল থাকে, তবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার আগেই তা সংশোধন করিয়ে নিন।
পরবর্তী ধাপটি হল কর ছাড় এবং কর ছাড়ের সুবিধা দাবি করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি 'হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স' পান এবং ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তবে নিয়োগকর্তার কাছে ভাড়ার রসিদ জমা না দিয়েও আইটিআর দাখিল করার সময় এইচআরএ-এর সুবিধা দাবি করতে পারেন।
এখন, সমস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় যোগ করুন এবং মোট আয় থেকে সেই সব ছাড়ের পরিমাণ বিয়োগ করুন যার সুবিধা আপনি পাওয়ার যোগ্য। এর ফলে আপনি সেই নির্দিষ্ট আয়ের পরিমাণটি জানতে পারবেন, যার ওপর ভিত্তি করে আপনার আয়কর হিসাব করা হবে।
সমস্ত তথ্য যাচাই করা এবং (প্রয়োজন হলে) কর পরিশোধ করার পর, আয়কর বিভাগের ই-ফাইলিং পোর্টালে আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন। জমা দেওয়ার আগে কোনও ভুল এড়াতে সমস্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পুনরায় দেখে নিন।














