আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১ জুলাই ২০১৭ সালে চালু হওয়া পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থা মঙ্গলবার নয় বছর পূর্ণ করল। এই উপলক্ষে কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ট্যাক্স’ -এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জিএসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত নয় বছরে নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল উদ্যোগ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারতের পরোক্ষ কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং ব্যবসাবান্ধব হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সরকার।


কেন্দ্রের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জিএসটি  চালুর আগে ভারতে ১৭টি পরোক্ষ কর এবং ১৩টি সেস কার্যকর ছিল। কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা আলাদা কর ব্যবস্থা থাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য কর প্রদান এবং নিয়ম মেনে চলা ছিল জটিল। জিএসটি চালুর মাধ্যমে এই সমস্ত করকে এক ছাতার নিচে এনে একটি অভিন্ন কর কাঠামো গড়ে তোলা হয়।


সরকারের মতে, গত নয় বছরে জিএসটি ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সংস্কারের আওতায় কিছু ক্ষেত্রে করের হার কমানো হয়েছে, বেশ কিছু পরিষেবা ও পণ্যে ছাড় বাড়ানো হয়েছে এবং কর জমা দেওয়ার নিয়ম আরও সরল করা হয়েছে। নতুন নিয়মগুলি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।


এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি একটি ডেস্টিনেশন বেসড ট্যাক্স। অর্থাৎ, কোনও পণ্য বা পরিষেবা যেখানে শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে, সেই রাজ্যই করের অংশ পাবে। এর ফলে কর আদায়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয়েছে এবং রাজ্যগুলির মধ্যে কর বণ্টনও সহজ হয়েছে।


সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে মানুষের ব্যবহারের জন্য মদ ছাড়া প্রায় সমস্ত পণ্য ও পরিষেবা জিএসটি-র আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের করহার কার্যকর হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা অনেক সহজ হয়েছে।


ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য গত কয়েক বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদের জিএসটি নিবন্ধনের সীমা ২০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লক্ষ করা হয়। ফলে বহু ছোট ব্যবসায়ী জিএসটি-র বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বাইরে থাকতে পেরেছেন।


সরকারের দাবি, গত নয় বছরে জিএসটি শুধু কর ব্যবস্থাকে আধুনিক করেনি, বরং ব্যবসা করা সহজ করেছে, স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। আগামী দিনে জিএসটি ২.০-এর মাধ্যমে এই সংস্কার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

&t=1s