আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনার বাজারে আবারও বদলাচ্ছে পরিস্থিতি। কিছুদিন আগেও লাগাতার দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই গয়না কেনা থেকে দূরে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মূল্যপতনের পর আবারও সোনার দোকানে বাড়তে শুরু করেছে ভিড়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানালেও, তুলনামূলক কম দামের সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকেই আবার সোনা কেনার দিকে ঝুঁকছেন।


ভারতে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং সংস্কৃতি, বিয়ে, উৎসব এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দামে কিছুটা স্বস্তি এলেই সাধারণ মানুষ আবার বাজারে ফিরতে শুরু করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।


চলতি সপ্তাহে সোনার দাম ২ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। বৃহস্পতিবার এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম নেমে দাঁড়ায় ১,৪৬,৪৪৪ টাকা। সপ্তাহের হিসাবে সোনার দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমেছে, যা খুচরো ক্রেতাদের কাছে সোনা কেনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।


তবে সপ্তাহের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক সংকেতের প্রভাবে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় মূল্যবান ধাতুর বাজার। সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ এমসিএক্সে সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১,৪৯,৯৪২ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১,০২১ টাকা বেশি। একই সময়ে রুপোর দাম বেড়ে ২,৪২,২৩২ টাকা হয়, অর্থাৎ প্রায় ২,৫৭৯ টাকা বৃদ্ধি পায়।


বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এই উত্থানের অন্যতম কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য। মধ্য এশিয়ার সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে। ফলে মূল্যবান ধাতুর দামে নতুন করে নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে।


তবে এখনও বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা, ডলারের শক্ত অবস্থান এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতা—সবকিছুই সোনা ও রুপোর দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা গেলেও এখনও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, এমসিএক্সে সোনা ১.৫০ লক্ষ টাকার গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্তর অতিক্রম করেছে, যা বাজারে কিছুটা শক্তি ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করতে সোনার দামকে ১.৫৫ লক্ষ টাকার উপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে হবে।


রুপোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ছবি দেখা যাচ্ছে। এমসিএক্সে রুপো ২.৪০ লক্ষ টাকার স্তর অতিক্রম করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরছে বলে ইঙ্গিত দেয়। তবে আরও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স স্তর ভাঙা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 


সব মিলিয়ে, সোনার দামে সাম্প্রতিক পতন আবারও ক্রেতাদের বাজারমুখী করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।