আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহুজাতিক সংস্থা ডেলয়েট তার সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতে ৫০ হাজার পেশাদার নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এই নিয়োগের খবর এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলি দ্রুত এআই গ্রহণের ফলে তাদের কর্মী ছাঁটাই করছে প্রবলভাবে। ভারতেই সংস্থার মোট কর্মী সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ কাজ করে।

সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণের লক্ষ্য কর্মী ছাঁটাই নয়, বরং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সিওও নিতিন কিনির মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হল এআই টুলের সাহায্যে আরও জটিল ও উচ্চমূল্যের কাজ সামলানোর জন্য কর্মীদের প্রস্তুত করা।

ডেলয়েট ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং আরও কর্মীদের তাদের অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করছে। এই পরিবর্তনের জন্য সংস্থার তরফ থেকে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্বেগ প্রসঙ্গে কিনি বলেন, “কর্মী সংখ্যা কমানোর পরিবর্তে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মদক্ষতা বাড়াতে এবং কর্মীদের উন্নত ভূমিকা পালনে সক্ষম করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।”

সংস্থাটি তার রাজস্বের প্রায় ৯% সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছে। কর্মী উন্নয়নের উপর সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী মনোযোগ এবং সদিচ্ছার প্রমাণ।

এআই-এর প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, সংস্থাটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির, বিশেষ করে সরকারি সংস্থার এবং বড় সংস্থাগুলির কিছু প্রধান উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেটা সুরক্ষার ঝুঁকি এবং এআই সমাধানগুলির পরিধি বাড়ানোর খরচ। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি সংবেদনশীল ডেটা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের মধ্যে রাখার বিষয়ে সতর্ক। একই সঙ্গে, এআই মডেলগুলির মূল্য নির্ধারণের কাঠামো বৃহৎ পরিসরে অপ্রত্যাশিত খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।

কিনি বলেছেন, “ভারতের উচিত একটিকে অন্যটির চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার না দিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা উভয়কেই একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি এই পদ্ধতিটিকে কর্মক্ষমতা ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং উদ্ভাবনের পাশাপাশি শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।”

ভারতে তার বৃহত্তর প্রযুক্তি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে ডেলয়েট একটি কোয়ান্টাম সেন্টার অফ এক্সিলেন্স-সহ নতুন উদ্যোগেরও পরিকল্পনা করছে।