আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডিজিটাল পেমেন্ট যত বাড়ছে, অনলাইন অনুমোদনের গতি যত দ্রুত হচ্ছে আর দৈনন্দিন খরচে ক্রেডিট কার্ডের উপর নির্ভরতা যত বাড়ছে—ততই বাড়ছে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা। এক মুহূর্তে ফোনে ভেসে ওঠা অচেনা ডেবিট এলার্ট যে কারও মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক না ছড়িয়ে দ্রুত ও সঠিক পদ্ধতিতে পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমানো যায়।


ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এবং সময়মতো প্রতারণার খবর দিলে গ্রাহক সম্পূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা পেতে পারেন। তাই জানা জরুরি, কোনও সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে ঠিক কী কী করবেন।


১. কার্ডটি সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করুন
প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ—আপনার ক্রেডিট কার্ডটি তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রিজ বা ব্লক করুন। মোবাইল অ্যাপ, নেট ব্যাংকিং কিংবা ব্যাঙ্কের ২৪×৭ কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করে কয়েক সেকেন্ডেই কার্ড ব্লক করা সম্ভব। এটি করলে জালিয়াতরা আর কোনও নতুন লেনদেন করতে পারবে না, এবং আপনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সময় পাবেন।


২. ব্যাঙ্কে লিখিত অভিযোগ জানান
এরপর আপনার ব্যাঙ্ককে জাল লেনদেনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। প্রায় সব ব্যাঙ্কই একটি ডিসপিউট ফর্ম বা বিরোধপত্র জমা দিতে বলে। এই ফর্মে থাকে—
প্রতারণামূলক লেনদেনের তারিখ
লেনদেনের পরিমাণ
ট্রানজ্যাকশন আইডি
আপনি নিজে লেনদেনটি করেননি—এটি উল্লেখ করে একটি লিখিত বিবৃতি
ব্যাঙ্ক তদন্ত শুরু করার জন্য এটি বাধ্যতামূলক।


৩. সমস্ত সরকারি প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন
আপনার দাবি শক্তিশালী করতে অভিযোগটি একাধিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ার
RBI–র Complaint Management System (CMS)
নিকটস্থ থানায় একটি FIR
লেনদেনের সময়, তারিখ, পরিমাণ, কোথায় এবং কীভাবে প্রতারণা হয়েছে—এসব বিস্তারিত দিলে তদন্তের গতি বাড়ে এবং টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা শক্তিশালী হয়।


৪. প্রতিটি নথি ও প্রমাণ সযত্নে সংরক্ষণ করুন
টাকা ফেরত বা চার্জব্যাক প্রক্রিয়ায় প্রমাণই আপনার শক্তি। তাই—
ব্যাঙ্কের SMS
ইমেল
FIR কপি
স্ক্রিনশট
ব্যাঙ্কের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের রেকর্ড
সব কিছু আলাদা করে রেখে দিন। ভবিষ্যতে দাবি সমর্থন করতে এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৫. ব্যাঙ্কের সঙ্গে নিয়মিত ফলো-আপ করুন
সব নথি জমা দেওয়ার পর এখানেই কাজ শেষ নয়। চার্জব্যাকের সময়সীমা নজরে রাখুন, ব্যাঙ্ক টাকা রিভার্স করেছে কি না জানুন এবং নতুন স্টেটমেন্টে কোনও অচেনা লেনদেন আছে কি না তা পরীক্ষা করুন। সচেতনতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ক্ষতি ঠেকানোর মূল চাবিকাঠি।


সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন
ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে—এটাই বাস্তব। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা, প্রক্রিয়া জানা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করলে ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়াও সম্ভব। পরিচিতজনদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন, সাধারণ প্রতারণার ধরণগুলো সম্পর্কে জানুন এবং নিয়মিত নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন। একটু সচেতনতা আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে রাখতে পারে ঝামেলামুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ।