আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেশ কিছুদিনের সংশোধনের পর আবারও চাঙ্গা হল সোনা ও রুপোর বাজার। সোমবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সোনা ও রুপোর দামে বড় উত্থান দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং মধ্য এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বেড়েছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার সকালে এমসিএক্সে ১০ গ্রাম সোনার ফিউচার্সের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১,৪৪,১৩০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১,০২৪ টাকা বা ০.৭২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রুপোর ফিউচার্সের দাম প্রতি কেজিতে ২,২৪,৬৬৩ টাকা, অর্থাৎ ২,৫২৫ টাকা বা ১.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে। সম্প্রতি মধ্য এশিয়াতে সংঘাত কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান জানিয়েছে, আমেরিকা আক্রমণ বন্ধ রাখলে তারাও হামলা চালাবে না। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি নেমে এসেছে।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলার সূচক ১০১-এর নিচে নেমে আসায় ডলারে লেনদেন হওয়া সোনা ও রুপো বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়েছে। এর জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বেড়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে সোনা ও রুপো উভয়ই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। পরে মধ্য এশিয়ার সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। এর ফলে ডলার শক্তিশালী হয় এবং সুদহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। সেই কারণেই গত কয়েক মাসে দাম সংশোধনের মুখে পড়েছিল।
এখন আবার বাজারের নজর রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিগত বৈঠকের দিকে। যদিও সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি, তবুও ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিলে সোনা ও রুপোর দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, ফেড যদি কঠোর অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে মূল্যবান ধাতুর এই উত্থানে কিছুটা লাগাম পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ সম্পদ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি এবং ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
















