আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের আট মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে কৌতূহল—কবে জমা পড়বে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং কবে কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো? ইতিমধ্যেই কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট নয় দফা আঞ্চলিক বৈঠক করেছে। সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯ ও ১০ জুলাই কলকাতায়, যেখানে কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে।


বৈঠকগুলিতে মূলত বেতন কাঠামো, পেনশন, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা এবং অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি ও সুপারিশ সংগ্রহ করেই কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে।


বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে অষ্টম বেতন কমিশন কেন্দ্রের কাছে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারে। এরপর কেন্দ্র সরকার সেই সুপারিশগুলি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অষ্টম বেতন কমিশন অনুমোদন করে। পরে ৩ নভেম্বর ২০২৫ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় এবং ১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।


এই কমিশনের সিদ্ধান্তে দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৭০ লক্ষ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। তাই কমিশনের সুপারিশ ঘিরে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।


বর্তমানে কর্মচারী সংগঠনগুলি ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পুরনো পেনশন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। যদি কমিশন ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সুপারিশ করে এবং কেন্দ্র তা মেনে নেয়, তাহলে বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা ন্যূনতম বেসিক বেতন বেড়ে প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, ন্যূনতম বেতনে প্রায় ২৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি হতে পারে।


সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ২৫,৫০০ টাকা বেসিক বেতন বেড়ে ৯৭,৬৬৫ টাকা, ৩৫,৪০০ টাকা বেড়ে ১,৩৫,৫৮২ টাকা, ৪৪,৯০০ টাকা বেড়ে ১,৭১,৯৬৭ টাকা এবং ৫৬,১০০ টাকা বেসিক বেতন বেড়ে ২,১৪,৮৬৩ টাকা হতে পারে। যদিও এগুলি এখনও সরকারি অনুমোদন পায়নি এবং সম্ভাব্য হিসাবমাত্র।


বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও বড় দাবি তুলেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। বর্তমানে X, Y এবং Z শ্রেণির শহরে যথাক্রমে ৩০%, ২০% এবং ১০% হারে HRA দেওয়া হয়। সংগঠনগুলির দাবি, এই হার বাড়িয়ে ৪০%, ৩৫% এবং ৩০% করা হোক।


এছাড়াও, কর্মচারীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা বকেয়া পাওয়া নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। কর্মচারী সংগঠনের এক সূত্রের দাবি, অষ্টম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হলে প্রথম ছয় মাসের ডিএ নতুন কাঠামো অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। তবে জুলাই ২০২৬ থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে ঘোষিত ডিএ বৃদ্ধির অর্থ পরে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে বকেয়া হিসেবে কর্মচারীদের দেওয়া হতে পারে।


যদিও এই সমস্ত বিষয় এখনও কমিশনের আলোচনাধীন এবং কেন্দ্র সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবুও বেতন বৃদ্ধি, এইচআরএ সংশোধন এবং ডিএ বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী কয়েক মাসে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামো।

&t=1s