আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ ভারতীয়দের কাছে কোটিপতি হওয়ার বিষয়টি স্বপ্নের মতো। অনেকেই মনে করেন, এর জন্য প্রয়োজন মোটা বেতনের চাকরি, জমজমাট ব্যবসা কিংবা অসামান্য ভাগ্য। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়।
মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা (যা হয়তো আপনি বিনোদন বা বাইরে খাওয়াদাওয়াতেই খরচ করে ফেলেন) বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে এক কোটি টাকায় পরিণত হতে পারে। তবে এর সঙ্গে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
সংখ্যার হিসেবে মুগ্ধ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের দু'টি বাস্তব বিষয় মনে রাখা উচিত।
প্রথমত, এসআইপি-এর মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলা কোনও স্বল্পমেয়াদী দৌড় (স্প্রিন্ট) নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া (ম্যারাথন)। এক কোটির মাইলফলক স্পর্শ করতে সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তাই আগেভাগে বিনিয়োগ শুরু করাটা একটি বড় সুবিধা।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যাশিত রিটার্ন বা মুনাফা কোনও নিশ্চিত বিষয় নয়, বরং তা কিছু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। ইকুইটি ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় মুনাফা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু বাজারের ওঠানামার কারণে কোনও বছর হয়তো তা দুই-অঙ্কের বৃদ্ধি দেখাবে, আবার অন্য কোনও বছর তা নেতিবাচক পর্যায়েও চলে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অনেকেই উৎসাহ নিয়ে এসআইপি শুরু করেন, কিন্তু বাজারের মন্দা বা ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের সময় বিনিয়োগ বন্ধ করে দেন। সময়ের আগে টাকা তুলে নিলে 'কম্পাউন্ডিং'-এর সুবিধা নষ্ট হয়ে যায়।
ধরা যাক, আপনার এসআইপি-তে বার্ষিক গড় রিটার্ন ১২ শতাংশ, সেক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগটি কীভাবে বৃদ্ধি পাবে, তা নিচে দেওয়া হল।
মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি-তে বিনিয়োগ:
মাসিক বিনিয়োগ: ২,০০০ টাকা
সময়কাল: ৩৫ বছর
মোট বিনিয়োগ: ৮.৪ লক্ষ টাকা
প্রত্যাশিত রিটার্ন: ১২ শতাংশ
আনুমানিক মুনাফা: ১.০২ কোটি টাকা
মেয়াদ শেষে মোট তহবিল: ১.১ কোটি টাকা
সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, বরং আপনি কত দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগটি ধরে রাখছেন।
যেকোনও সফল এসআইপি কৌশলের মূল ভিত্তি হল 'কম্পাউন্ডিং'। এই প্রক্রিয়ায় আপনার মূল বিনিয়োগ এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা, উভয়ই একসঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রটি আরও গতিশীল হয়ে ওঠে, যার ফলে মাসে সামান্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেও দীর্ঘমেয়াদে বিশাল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। বিনিয়োগ শুরু করতে দেরি হওয়া বা মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে এক কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর্থিক পরিকল্পনাকারীরা প্রায়শই 'স্টেপ-আপ এসআইপি'-র পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণও বৃদ্ধি করতে পারেন।
কয়েক দশক ধরে বিনিয়োগের পরিমাণ ২,০০০ টাকায় স্থির না রেখে প্রতি বছর এসআইপি-র কিস্তি বাড়ালে মেয়াদের শেষে জমানো অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, মাসে ২,০০০ টাকার এসআইপি বিনিয়োগের মাধ্যমে সত্যিই এক কোটি টাকার বেশি তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের কাছ থেকে ভাল রিটার্ন পাওয়া। আসল বিষয়টি বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পথে অবিচল থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্য ও শৃঙ্খলার ওপর।
















