শ্রেয়সী পাল: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারী সুরক্ষা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি পুলিশের প্রতি বার্তা দিয়েছেন, কোনও মহিলার ওপর কোনও ঘটনা ঘটলে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। পুলিশকে তাঁর নির্দেশ, আইন মতো যা করার করবেন। আপনাকে ঢাল হিসেবে সুরক্ষা দেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
নারী সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী ,পুলিশকে এত বড় ছাড় দিলেও এবার মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণ পুলিশ ফাঁড়ির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল এক প্রাপ্তবয়স্ক যুবক-যুবতী স্বেচ্ছায় বিয়ে করার পর মহিলার ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর চেষ্টার।
যদিও এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা কান্দির বিজেপি বিধায়ক গার্গী দাস ঘোষ সটান পৌঁছে যান পুলিশ ফাঁড়িতে। রাজ্যের মন্ত্রী ফাঁড়িতে আসছেন এমন খবর পেয়েই প্রাপ্তবয়স্ক ওই যুবক-যুবতীকে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছেড়ে দেয় বলে খবর।
যদিও গোকর্ণ ফাঁড়িতে পৌঁছে পুলিশের এই 'স্বেচ্ছাচারী' আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ। গোটা বিষয়টি তিনি জেলার পুলিশ সুপারের নজরে আনবেন বলেও জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি গোকর্ণ গ্রামের ৩৩ বছরের এক যুবকের সঙ্গে ২৬ বছরের এক মহিলার দীর্ঘদিন প্রণয়ের সম্পর্কে থাকার পর বিয়ে হয়। মন্ত্রীর দাবি দুই পরিবারের সদস্যরাই এই বিয়ে মেনে নিয়েছিলেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে নব দম্পতির অজান্তেই কেউ গোকর্ণ পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করে। তারপরেই পুলিশ ওই দম্পতিকে ফাঁড়িতে ডেকে মহিলাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ বলেন," বুধবার আমি খবর পাই এক প্রাপ্তবয়স্ক দম্পতিকে পুলিশ গোকর্ণ ফাঁড়িতে ধরে এনেছে এবং মহিলাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।" জানা গিয়েছে, মন্ত্রী ফাঁড়িতে আসছি বলার পরেই হঠাৎই কোনও কারণ ছাড়াই ওই দম্পতিকে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রীর অভিযোগ,"গোকর্ণ ফাঁড়ির কয়েকজন আধিকারিক এবং ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সম্পর্কে গত তিন মাসে আমার কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কিছু পুলিশ আধিকারিকের সমর্থনের জন্য এই এলাকায় তৃণমূল নেতাদের দাপট এখনও রয়ে গিয়েছে।"
রাজ্যের মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, "এই ফাঁড়িতে গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করা হয়। এই ফাঁড়িতে বিশাল কিছু 'লেনদেন' চলছে বলেও আমার কাছে খবর রয়েছে। আমি এটা বন্ধ করতে চাই. গোটা বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারের নজরে আনব।"
যদিও মন্ত্রী ফাঁড়িতে থাকা কালীন পুলিশের তরফে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, বিয়ে সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জমা পরলে 'এসওপি' অনুযায়ী মহিলাকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। সেক্ষেত্রে মহিলাকে এর জন্য অনুমতি দিতে হয়। পুলিশের দাবি এক্ষেত্রেও ওই মহিলা অনুমতি দিয়েছিলেন।
যদিও মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ পুলিশ আধিকারিকদেরকে জানিয়ে দেন," কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বেআইনি কাজ করবেন না। আইনের মধ্যে থেকে যা করার দরকার করবেন অযথা মানুষকে হয়রান করবেন না।"
















