বর্তমান ডিজিটাল যুগে রেশন কার্ড কেবল চাল-গম কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র, তেমনই রাজ্যের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্য সুরক্ষার মূল স্তম্ভ।
2
11
রাজ্য সরকারের ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের সৌজন্যে আজ প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে যাচ্ছে।কাগজের পুরনো কার্ড বদলে এখন সবার হাতেই ডিজিটাল রেশন কার্ড।
3
11
পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার রেশন কার্ডকে মূলত পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। কোন কার্ডে প্রতি মাসে ঠিক কতটা পরিমাণ রেশনের সামগ্রী মিলছে, দেখে নিন তার সম্পূর্ণ হিসাব।
4
11
১) অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY): সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া ও নির্দিষ্ট আয়হীন পরিবারগুলির জন্য এই কার্ড। এতে মাথাপিছু নয়, বরং পুরো পরিবারকে নির্দিষ্ট হারে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। চাল: পরিবার পিছু ২১ কেজি (বিনামূল্যে)। গম বা আটা: বিনামূল্যে ১৩ কেজি ৩০০ গ্রাম আটা অথবা ১৪ কেজি গম।চিনি: ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে প্রতি কেজি ১৩ টাকা দরে ১ কেজি চিনি।
5
11
২) স্পেশাল প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (SPHH):চরম আর্থিক সঙ্কট বা পারিবারিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন পরিবারগুলির জন্য এই কার্ড।চাল: মাথাপিছু ৩ কেজি (বিনামূল্যে)।গম বা আটা: মাথাপিছু ১ কেজি ৯০০ গ্রাম আটা অথবা ২ কেজি গম (বিনামূল্যে)।
6
11
৩) প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (PHH):সাধারণ অগ্রাধিকারভুক্ত শ্রেণির মানুষেরা এই কার্ডের আওতায় সুবিধা পান। চাল: মাথাপিছু ৩ কেজি (বিনামূল্যে)। গম বা আটা: মাথাপিছু ১ কেজি ৯০০ গ্রাম আটা অথবা ২ কেজি গম (বিনামূল্যে)।
7
11
৪) রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ (RKSY I):যাঁরা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের তালিকায় স্থান পাননি, তাঁদের সহায়তায় রাজ্য সরকারের নিজস্ব কোটায় চাল-গম দেওয়া হয়।চাল: মাথাপিছু ২ কেজি (বিনামূল্যে)।গম বা আটা: মাথাপিছু ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম আটা অথবা ৩ কেজি গম (বিনামূল্যে)।
8
11
৫) রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ২ (RKSY II):তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো আর্থিক অবস্থায় থাকা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এই ব্যবস্থা।চাল: মাথাপিছু ১ কেজি (বিনামূল্যে)।গম: মাথাপিছু ১ কেজি (বিনামূল্যে)।
9
11
খাদ্যশস্য ছাড়াও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, নতুন ভোটার কার্ড তৈরি কিংবা স্কলারশিপের আবেদনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বৈধ পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে।
10
11
এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সরকারি ত্রাণ পেতেও এই কার্ড অত্যন্ত জরুরি। ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ ব্যবস্থার ফলে এখন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
11
11
উল্লেখ্য, সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিজের রেশন কার্ডটি সচল রাখা এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নেওয়া জরুরি।