আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাতের অন্ধকারে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে সাদা থান, রজনীগন্ধার মালা, ধূপকাঠি ও মিষ্টি ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে এল। এর মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে নানুর বিধানসভার অন্তর্গত থুপসারা অঞ্চলের কুড়গ্ৰাম এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রামকৃষ্ণ মণ্ডল। বিজেপির অভিযোগ, দল না ছাড়ায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে প্রচ্ছন্ন প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে তাঁর বাড়ির সামনে সাদা থান, রজনীগন্ধার মালা, ধূপকাঠি ও মিষ্টি ঝুলিয়ে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে এই সামগ্রীগুলি মৃতদেহ সৎকার ও শ্রাদ্ধের সঙ্গে যুক্ত প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ এই ঘটনার মাধ্যমে রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও তাঁর পরিবারকে ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
অত্যন্ত আতঙ্কিত বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, সকালে বাড়ির গেট খুলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি প্রথম দেখতে পান। তিনি মনে করছেন, বিজেপি করার কারণেই তাঁকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। বিষয়টি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয় দেখানোর অংশ বলেই দাবি তাঁর।
বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ, আগে যে ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সংস্কৃতি সিপিএম-এর আমলে দেখা যেত, বর্তমানে সেই একই পথ অনুসরণ করছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার সবে শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই বিরোধী দলের নেতাদের লক্ষ্য করে এই ধরনের প্রচ্ছন্ন প্রাণনাশের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি ভালোভাবে নেবেন না এবং এর প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে। তৃণমূলের সন্ত্রাসমূলক রাজনীতিকে মানুষ সমর্থন করছে না বলেও দাবি তাঁর। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ দাবি করেন, নানুরে বিজেপির সংগঠন কার্যত অদৃশ্য এবং রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি টিআরপি নেওয়ার জন্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কাজল। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে ধর্ম ও বিভাজনের রাজনীতি করে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি।
তৃণমূল নেতৃত্ব আরও দাবি করেছেষ, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং সেই কারণেই সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রয়েছে। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বেও সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিরোধীরা পুরনো অশান্তির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তবে মানুষ তা মেনে নেবেন না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। যদিও ঘটনার তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের।
