আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারই বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই বাজেট আট মাসের বাজেট।
পরের অর্থবর্ষের আগে পর্যন্ত এই বাজেটের কাজগুলো হবে। ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম বাজেট পেশ বিজেপি সরকারের। বাংলার উন্নয়নকে ঘিরে একাধিক খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব রেখেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।
সেখানে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লেখ করা হয়েছে রাজ্যে শিল্প আনার। তেমনই উল্লেখ করা হয়েছে স্টার্ট আপের দিকে নজর দেওয়ারও। আবার যাঁরা গিগ কর্মী বা যাঁরা ক্লাউড কিচেন খুলতে চান তাঁদের জন্যও বিশেষ বিশেষ প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তেমনই রাজ্য বাজেটে উঠে এসেছে বাংলার পর্যটনের কথাও। শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যজুড়েই ঐতিহাসিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে বাংলায়। ফলে, পশ্চিমবঙ্গে একদিকে যেমন কালীঘাট-তারাপীঠের মতো তীর্থক্ষেত্র রয়েছে তেমনই মুর্শিদাবাদ নবাবদের ইতিহাসের নিদর্শন রয়েছে।
বাংলার পর্যটনকে নতুন রূপরেখা দিতে একাধিক নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকারের বাজেটে। এমনকী, সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি দুর্গাপুজোও।
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘দুর্গাপূজা হল বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মা। এর অনন্য ঐতিহ্যগত মূল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায়, দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গকে একটি প্রধান বিশ্বের সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজো এক বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ’ এই মূল প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আমরা একটি লক্ষ্যভিত্তিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান শুরু করব। এর মাধ্যমে থিমভিত্তিক প্যান্ডেলের জাঁকজমক, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প, সংগীত এবং সাম্প্রদায়িক উৎসব উদযাপনের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হবে। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পর্যটন সার্কিট, সুচিন্তিত উৎসবভিত্তিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রচারঅভিযান, উন্নত দর্শনার্থী সুবিধা, ডিজিটাল গাইড এবং ভ্রমণ সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।’
রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দাবি, বাংলা জুড়ে যে সমস্ত ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্রগুলি রয়েছে তার যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রসার ঘটানো অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘কালীঘাট ও তারাপীঠের বিখ্যাত কালীমন্দির, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, মদনমোহন মন্দির, জল্পেশ মন্দির, ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি, মা কল্যাণেশ্বরী, তারকেশ্বর, কঙ্কালিতলা, কিরীটেশ্বরী, কোন্নগর এবং বিভিন্ন শক্তিপীঠের মত ঐতিহ্য বহনকারী স্থানগুলির পুনরুদ্ধারের জন্য ‘হেরিটেজ কমিশন’ পুনর্গঠন করা হবে।’
জানান, ‘রাজ্যের প্রধান শক্তিপীঠগুলিকে যুক্ত করে একটি ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হল এই মন্দিরগুলিকে বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা। একটি প্রধান জেলা শহরকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্দিরকে সংযুক্ত করে উপযুক্ত পর্যটন কর্মসূচি তৈরি করা হবে, যা ভ্রামরীদেবী, নন্দীকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালিতলা মন্দিরকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’
নদিয়া জেলাকে কেন্দ্র করেও একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন,’শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তাভাবনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে ‘চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মায়াপুরকে রাজ্যের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ এর জন্য তিন বছরে মোট ১০০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।















