প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে ‘এল নিনো’ । বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আধুনিক মানবজাতির ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো।
2
10
চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে এই জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনাটি চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা সব রেকর্ড ভেঙে অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছানোর সতর্কতা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
3
10
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষুবরেখীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই 'সুপার এল নিনো' স্তরে পৌঁছে গেছে। তবে গবেষকদের সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলছে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে জমে থাকা বিশাল তাপের ভাণ্ডার, যা আগামী কয়েক মাসে ক্রমশ ওপরে উঠে আসবে।
4
10
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের এই তাপের পরিমাণ ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। এই তিনটি পর্বকে জলবায়ু রেকর্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
5
10
জলবায়ু বিশ্লেষক কলিন ম্যাককার্থি জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের গতি, তীব্রতার পূর্বাভাস এবং সমুদ্রে জমে থাকা তাপের পরিমাণ—এই সবকটি সূচকেই একের পর এক নতুন রেকর্ড তৈরি করছে বর্তমান এল নিনো।
6
10
মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ জল ছড়িয়ে পড়লে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এটি বিশ্বব্যাপী বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনকে বিঘ্নিত করে।
7
10
এর ফলে বিভিন্ন মহাদেশ জুড়ে বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা, দাবদাহ এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের ধরন পুরোপুরি বদলে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বছরের দ্বিতীয় অর্ধে এটি আরও শক্তিশালী হবে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে চরম সীমানায় পৌঁছাবে।
8
10
এই প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদী মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে সাময়িকভাবে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি পৃথিবীকে এমন এক চরম উষ্ণতার দিকে ঠেলে দেবে, যা গত কয়েক লক্ষ বছরেও দেখা যায়নি।
9
10
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে থাকতে পারে তীব্র থেকে তীব্রতর দাবদাহ, মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ খরা এবং অন্যান্য এলাকায় হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি। যদিও নির্দিষ্ট আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্ব এখন জলবায়ুগতভাবে এক তীব্র অস্থিরতার যুগে প্রবেশ করছে।
10
10
সমুদ্রের তাপমাত্রা যেভাবে উর্ধ্বমুখী এবং তলদেশের বিপুল তাপ যেভাবে ওপরের দিকে আসছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আগামী মাসগুলি পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।