আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব ঘোষণা মেনেই বুধবার বিকেল ৪টেয় সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকেই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা সংক্রান্ত একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি। উল্লেখ করলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির জন্য কম্পোজিট গ্রান্ট বিতরণের কথাও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ অন্য আধিকারিকেরা।

 

আজই গুরুপূর্ণিমা। এদিন রাজ্যের সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলির জন্য কম্পোজিট গ্রান্ট বাবদ ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা বিতরণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ৮০,৩৭৫টি বিদ্যালয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আরটিজিএসের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই অর্থ পৌঁছে গিয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে এই অনুদান বন্ধ থাকার জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারের নীতিকে দায়ী করেন।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্প ও অনুদানের সুবিধা রাজ্য পাবে।" পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালন সমিতিতে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

সরকারি স্কুলগুলিকে আরও আধুনিক করে তুলতে ১,২০০-র বেশি স্কুলে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা, উচ্চমাধ্যমিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্স চালু, ১,০০০টি স্কুলে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব, এবং পিএম-শ্রী স্কুলের সংখ্যা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৮০০ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আরও পিএম-শ্রী স্কুলের অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব স্কুলে এখনও বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পৃথক শৌচাগার, ফ্যান বা রান্নার উপকরণের অভাব রয়েছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নত করা হবে। স্কুলগুলিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই সরকারের অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, “শুধু নতুন ভবন তৈরি করলেই হবে না, সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে এমন মানে নিয়ে যেতে হবে যাতে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরাও বেসরকারি স্কুলের সমমানের শিক্ষা পায়।”

 

উল্লেখ্য, কম্পোজিট গ্রান্ট সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির দৈনন্দিন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালানোর জন্য বার্ষিক সরকারি অনুদান। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে 'সমগ্র শিক্ষা মিশন'-এর মাধ্যমে এই অনুদান দেয়। এই অনুদান মূলত স্কুলপড়ুয়াদের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। যা স্কুলের চক-ডাস্টার কেনা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল মেটানো এবং ছোটখাটো মেরামতির কাজে ব্যবহার করা হয়।

 

গতকাল স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে স্কুলগুলির কাছে এই অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া যায় সে সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের (DEO) সঙ্গে সমন্বয় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।