বিউ সরকারঃ দেশের মধ্যে যে 'এডুসিটি' গড়ে তোলার কথা ছিল, তাঁর মধ্যে এ বার একটি তৈরি হবে এ রাজ্যেও। অন্তত এমন চেষ্টাই করা হবে সরকারের তরফে। বিধানসভার জবাবী ভাষণে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জি। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী শিক্ষক-সহ একাধিক বিষয়ের কথাও।
বিধানসভায় এ দিন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জি বলেন, "দেশে যে পাঁচটি এডুসিটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তাঁর একটি রাজ্যেও গড়ে তোলা হবে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁর উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।" এমনকি রাজ্যে বহু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় আসবে বলেও দাবি জানান তিনি।
বিধানসভায় মন্ত্রী রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার খামতির দিকগুলি স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করেন। পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, "পোকায় খাওয়া উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে হাতে পেয়েছি আমরা।" জানান, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোর বেশ খারাপ। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং হিল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩৯ জন পড়ুয়া রয়েছেন। এমনকি, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকি ২০ কিলোমিটারের দূরত্বে যে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে, সেগুলিও ধুঁকছে বলে তাঁর অভিযোগ। কৃষ্ণনগরের কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনও স্থায়ী অধ্যাপক নিয়োগ করা হয়নি, অতিথি শিক্ষকদের দিয়েও কাজ চালানো হচ্ছে।
বিধানসভায় তাঁর অভিযোগ, হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র ১৭৮ জন পড়ুয়া এবং এক জন উপাচার্য রয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি ভাড়া বাড়িতে চালানো হচ্ছে। কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ঠিকানা নেই। অস্থায়ী বলে ছ’মাস পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানাও। এ ছাড়াও, রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও অভিযোগের তালিকা প্রকাশ করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আঙুল তোলেন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ইউনিয়ন রুম নিয়েও। সেগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব অধ্যক্ষ এবং শিক্ষাকর্মীদের। সে জন্য তাঁদের পদক্ষেপের কথা বলেন। পাশাপাশি, সম্প্রতি ১০টি কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে মদের বোতল, হুক্কা, তরোয়াল, গর্ভনিরোধক সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে, তা-ও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এই বেহাল দশা থেকে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বেশ খানিকটা রদবদল প্রয়োজন বলে জানান মন্ত্রী।
পাশাপাশি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়েও বেশ কিছু কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। বলেন, "যাঁরা ইউজিসি যোগ্যতা নিয়ে অস্থায়ী ভাবে কলেজে শিক্ষকতা করছেন বা স্যাক্ট-১ পদে কর্মরত, তাঁদের সাম্মানিক এবং প্রাপ্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। অন্য দিকে, স্যাক্ট-২ পদে যাঁদের ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতা নেই, তাঁদেরও প্রয়োজনমূলক ব্যবস্থা করা হবে।
















