গোপাল সাহা 

শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সরকার আরও একটি শপথ নিয়েছিল, রাজ্যেকে অপরাধ শূন্য করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে অপরাধমুক্ত বাংলা। আর তাই কেন্দ্রের এনআইএ(NIA) এর আদলে অপরাধ দমনের জন্য নতুন তদন্তকারী সংস্থা এসআইএ (SIA বা state investigation agency) গঠিত হবে। আপাতত যার মাথায় থাকবেন একজন এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস আধিকারিক। এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে এই সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরিচালনার জন্য। 

চলতি মাসে রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সফরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকেই নেওয়া হয় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হবে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা এসআইএ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতোই এই এসআইএ কাজ করবে সন্ত্রাস, জাল নোট, মানবপাচার, মাদকপাচার-সহ একাধিক সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে। রাজ্যের নিজস্ব এই তদন্তকারী সংস্থা আগামী দিনে অপরাধদমনে পুলিশের এক বড় শক্তি হয়ে উঠবে। 

ভবানী ভবন সূত্রে খবর, এসআইএ গঠনের যাবতীয় কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সংস্থা গোয়েন্দা সংস্থার ধাঁচে কাজ করবে। তবে সিআইডি-র আদলে নয়, তাদের কাজ ও তার পদ্ধতি হবে সম্পূর্ণই আলাদা। এর মাথায় বসানো হতে পারে এডিজি পদমর্যাদার এক আধিকারিক। তবে সেই আধিকারিকের পূর্ববর্তী ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ খতিয়ে দেখেই নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে সংস্থা কবে পুরোদমে কাজ শুরু করবে, আলাদা থানা তৈরি হবে কি না, হলে তা কোথায় হবে— এসব বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার মতে, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই তা প্রকাশ্যে আনা হবে। 

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অমিত শাহের সফর শুধু বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।