বিউ সরকার

স্বাধীনতা দিবসের আগে শিল্প, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বার্তা দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাসগুপ্ত। শিল্পমহলের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকারের প্রধান ভরসা ‘গ্রোথ’ বা প্রবৃদ্ধি।

মার্চেন্ট’স চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-র একটি অনুষ্ঠানে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকার শিল্প ও বিনিয়োগের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য শিল্পমহলের সহযোগিতা ও নতুন বিনিয়োগই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা একটা বড় সমস্যা ছিল। আমরা আইনশৃঙ্খলা সুনিশ্চিত করতে চাইছি যাতে শিল্পের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধে না হয়। কংক্রিট একটা শিল্পনীতি রাজ্যের সরকার আনবে। উদ্যোগপতিদের যাতে কোনও অসুবিধে না হয়।”

এরপরেই সিঙ্গুর অধ্যায় উঠে আসে অর্থমন্ত্রী বক্তব্যে। তিনি বলেন, “অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবেই। সিঙ্গুর আমাদের রাজ্যের বাজে অধ্যায়। রাজ্যে বনধ, ধর্না, অবরোধ শিল্পের পরিবেশ নষ্ট করেছে। আমাদের গুডউইল নষ্ট হয়েছে। শিল্পের জন্য জমির প্রয়োজন। ল্যান্ড ব্যাঙ্ক যা ছিল সেটা কংক্রিট ছিল না। আমারা সেগুলি পরিবর্তন করছি। আগামী দিনে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। যাতে কোনও সমস্যা না হয়। আমারা একটি দায়িত্বশীল সরকার। শিল্পবান্ধব সরকার। শিল্পপতিরা আসুন দেখুন আমরা কি করতে চাইছি। আগে সিন্ডিকেটরাজ ছিল। সেটা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমি বলব না। তবে সরকার এই বিষয়ে নজর রেখেছে। আগামী দিনে সারা ভারতবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে থাকবেই।”

অর্থমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী বাম আমলের বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেই দেনার চাপ সামলেও রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজ্যের রাজস্ব বাড়াতে হলে শিল্পে প্রবৃদ্ধি আনতেই হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

তিনি জানান, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতি ও প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গে আসতে শুরু করেছে। এর ফলে আগামী দিনে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে এবং রাজ্যের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “অতীতে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হল রাজস্ব বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই শিল্পবান্ধব নীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”