আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আসানসোলের কুলটিতে খোলামুখ কয়লা খনিতে দুর্ঘটনা। ধস নেমে মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হল তিনজনের। আরও বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 


ওই এলাকায় বিসিসিএলের খোলামুখ কয়লা খনি রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিসিএলের খোলামুখ খনি থেকে বেআইনিভাবে কয়লা চুরি করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন যুবক। মঙ্গলবার সকালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। খোলামুখ খনির ভিতর ধস নামে। মাটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে যান স্থানীয়রা। 


ঘটনাটি ঘটে আসানসোলের কুলটি থানার বড়িরা এলাকায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ এবং কুলটি থানার পুলিশ। বিসিসিএলের তরফে জেসিবি দিয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকার মানুষ ভিড় জমায়। ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। 


খনিতে আরও কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল, সেই বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি থানার বড়িরায় বিসিসিএলের খোলামুখ বা ওপেন কাস্ট কয়লাখনিতে অবৈধভাবে কয়লা তোলা হচ্ছিল। সে সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। হুড়মুড় করে উপর থেকে মাটি ধসে যায়। অন্তত ছ’জন ভিতরে মাটি চাপা পড়ে যায় বলে অনুমান। মৃতদের মধ্যে আছেন সুরেশ বাউরি, গীতা বাউরি ও টিপু। তিনজনই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে আছেন সুভাষ মল্লিক, গোবিন্দ বাউরি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 


কয়েকজন জখমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। খনির ভিতরে আটকে থাকা লোকজনদের উদ্ধারের জন্য মাটি কাটার মেশিন নামানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই ওই অঞ্চলে বিশাল সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী ও সিআইএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে। 


দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের শতাধিক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। প্রিয়জনদের খোঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। অভিযোগ, এই কয়লাখনিতে আগেও একাধিকবার মাটি ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কেন খোলামুখ খনিতে মানুষদের আনাগোনা বন্ধ করা যাচ্ছে না? কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকছে না? সেই প্রশ্ন উঠেছে।