আজকাল ওয়েবডেস্কঃ খিদিরপুর জগন্নাথ মন্দিরের উল্টো রথযাত্রায় শুক্রবার নর্দান পার্কে উপস্থিত হয়ে পূজার্চনায় অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাসির বাড়ি থেকে ভগবান জগন্নাথ, শ্রীবলরাম ও সুভদ্রা মাতার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তিনি দেবতাদের পায়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন ও ফল নিবেদন করেন। পাশাপাশি, আনুষ্ঠানিকভাবে উল্টো রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন। সেখানেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "কোনও পুলিশকর্মী যদি গাড়ি থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলেন। আর সেই অভিযোগ প্রমাণ-সহ সরকারের কাছে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ছবি বা অন্য কোনও প্রমাণ-সহ অভিযোগ পেলেই সাসপেন্ড করা হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "শুধু পুলিশ নয়, বালি, কয়লা-সহ যে কোনও মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই উদ্দেশ্যে নবান্নে খুব শীঘ্রই একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হবে। সেখানে তোলাবাজি, দুর্নীতি বা অন্য কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু হবে।" দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গতকাল বিকেলেও একটি অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেই ফের স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিজেপি-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। গোটা বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এই ইস্যু তাঁর উপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
শুক্রবার দেশবিরোধী স্লোগান নিয়েও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বাংলার মাটিতে কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগান বা কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলার মাটি থেকে সমাজবিরোধী ও দেশবিরোধী কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, "১৫ আগস্ট স্বাধীনতা এবং ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে হবে। বাংলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাটি। এই মাটিতে কোনওরকম দেশবিরোধী বা উল্টোপাল্টা কার্যকলাপ চলবে না।"
















