আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ফুলমণি আদর্শ বিদ্যামন্দিরে ক্লাস চলাকালীন আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ল প্রায় ৩২ জন নবম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার প্রথম পিরিয়ড শেষ হতেই একের পর এক ছাত্রী শ্বাসকষ্ট, হাত-পা টান ধরা এবং শারীরিক অস্বস্তির কথা জানায়। তড়িঘড়ি তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পড়ুয়াদের দাবি, গত এক মাস ধরেই স্কুলে মাঝে মাঝে এমনটা ঘটছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেবল নবম শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কোনও ছাত্র অসুস্থ হয়নি। এর আগেও একই ভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল কয়েক জন ছাত্রী।
ধারাবাহিক এই ঘটনার জেরে এলাকায় নানা ভৌতিক ও অলৌকিক কথা রটতে শুরু করেছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছান বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, অসুস্থ ৩২ জনের মধ্যে ৩০ জনকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দু’জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনও 'প্যানিক অ্যাটাক' বা 'গণ-মানসিক প্রতিক্রিয়া' (মাশ হিস্টেরিয়া)-র ফল হতে পারে।
অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধি প্রদীপ্ত সরকারের মতে, এর পেছনে অলৌকিক কিছু নেই। রাসায়নিক গ্যাস, খাবারের বিষক্রিয়া বা পরিবেশগত কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে ভয় পেয়ে এক জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তা দেখে অন্যদের মধ্যেও একই মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া ছড়াতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগে যে শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছিল। সম্প্রতি সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ছাত্রীদের মনে নতুন করে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে বর্তমান অসুস্থতার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ওই স্কুলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর রাখতে শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
















