এসআইআর হয়রানিতে মৃত্যু! শুনানির লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অসুস্থ, মৃত্যু মহিলার

শুনানির লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অসুস্থ, ফের মৃত্যু! প্রতীকী ছবি।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর হয়রানিতে মৃত্যুর অভিযোগ মহিলার। নাম রত্না চ্যাটার্জি। অভিযোগ, ওই মহিলাকে এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর, অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি কল্যাণী গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়েই, হাসপাতালে যাচ্ছেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক।

আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযগ করা হলে, তিনি জানান, 'আমরা বারবার বলেছি অসুস্থ, বয়স্ক লোকজনেদের শুনানি বাড়িতে গিয়ে করা হোক। প্রয়োজনে সমস্ত তথ্য বিএলও'দের থেকে জানা হোক। এই সমস্তকিছুর জন্য বিজেপি দায়ী। এই মৃত্যুর দায় বিজেপিকে নিতে হবে।'  

 

এসআইআর শুনানি ঘিরে আতঙ্কের আবহ জেলায় জেলায়। সেই আবহেই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রকাশ্যে আসছে বারবার। এবার দেখা গেল, কয়েকজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা অ্যাম্বুল্যান্সে করে, স্ট্রেচারে শুয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন। 

ঘটনাস্থল নদিয়ায় চাপড়ার সিকরা কলোনি। স্ট্রেচারে শুয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই তাঁর। যা ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। হাঁটার ক্ষমতা প্রায় নেই। তারপরও ওই বৃদ্ধকে এভাবে যেতে হল শুনানি কেন্দ্রে। পরিবারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বাড়িতে যাতে শুনানির ব্যবস্থা করা যায়, তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনে নাকি কর্ণপাত করেনি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর ফর্ম পৌঁছে দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট BLO-রা। সেই ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে জমাও দেওয়া হয়েছিল। খসড়া ভোটার তালিকায় ওই বৃদ্ধার নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় শুনানির নোটিশ। নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ ছিল তাঁর শুনানি চাপড়া বিডিও অফিসে। অসুস্থ অবস্থায় হাঁটাচলা করতে অক্ষম হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাঁকে স্ট্রেচারে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। 

 

জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার নাম হাচিনা শেখ। তিনি নদিয়ার চাপড়া থানার শিক্ষা ৯৩ নম্বর বুথ কলোনির বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসআইআর-এর কাজ শুরু হওয়ার পর এলাকার অন্যান্য পরিবারের মতো তাঁদের বাড়িতেও ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। সেই ফর্ম যথারীতি পূরণ করে জমা দেওয়ার পর খসড়া তালিকায় হাচিনা শেখের নাম ওঠে। তা সত্ত্বেও শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়। পরিবারের আরও অভিযোগ, হাচিনা শেখ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তবুও কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হয়। 

ফলে উপায় না পেয়ে স্ট্রেচারে করেই তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই, সেই কারণেই শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মহিদুল মোল্লা অভিযোগ করেন, কমিশনের গাফিলতির কারণেই সাধারণ মানুষকে এমন অমানবিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আশির ঊর্ধ্ব এই বৃদ্ধার কাছে যে সমস্ত নথি রয়েছে, সেই নথি নাকি নির্বাচন কমিশনের কাছেই নেই। 

 

অপর ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের কান্দিতে। সেখানেও অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন দুই বৃদ্ধা। তাঁদের একজনের বয়স ৮০ আর অন্যজনের বয়স ৭২ বছর। দুই পরিবারের তরফেই কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ জানানো হয়েছে। 

২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও সেখানে কিছু ভুল থাকায় শুক্রবার কান্দি ব্লকে শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছিল মহলন্দী গ্রামের এমন কয়েকজন বাসিন্দাদের, যাঁদের বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা নেই। কান্দির তৃণমূল বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের উদ্যোগে শুনানি প্রক্রিয়ায় হাজিরা দিতে তৃণমূল দলের উদ্যোগে অ্যাম্বুল্যান্স করে কান্দি ব্লক অফিসে যান মাকসুদা বেওয়া, আসিয়া বিবি সহ আরও এমন কিছু বয়স্ক মানুষ যাঁদের অন্য কারও সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করার ক্ষমতাই নেই।